ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলা এই কর্মসূচির কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পৌঁছান। এরপর তাঁরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে গোলচত্বর দিয়ে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেতন বাড়ানোর দাবিতে প্রথমে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই রূপনগরের দিক থেকে আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিক এসে আবার সড়ক আটকে দেন। পুলিশ এখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।
মিরপুর-১০ ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত সংযোগস্থল। এখান থেকে উত্তরা, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী ও কাজীপাড়ামুখী সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এই গোলচত্বরে অবরোধ হলে তার প্রভাব আশপাশের বিভিন্ন সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
শ্রমিকদের এই দাবি নতুন নয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাক খাতের শ্রমিকেরা মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান মজুরিতে বাসাভাড়া, খাবার ও চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে চলা কঠিন। অন্যদিকে কারখানার মালিকপক্ষ সাধারণত উৎপাদন ব্যয় ও বৈশ্বিক বাজারের চাপের কথা তুলে ধরেন। এ কারণে মজুরি নির্ধারণ নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে দরকষাকষি প্রায়ই জটিল হয়ে ওঠে।
এ ধরনের আন্দোলনে সড়ক অবরোধ শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরার একটি পরিচিত পথ হলেও এর ভোগান্তি পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যানজট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শ্রমিকদের দাবি শোনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

