মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় প্রকাশ্যেই একটি প্রাকৃতিক টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব-দৌলতপুর গ্রামে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাছেই এই কাজ চলছে। দিনের আলোতেই ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে কয়েকশ মিটার দূরেই টিলাটি অবস্থিত। এটি মৃত আলকাছ আলীর মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। টিলাটির উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ ফুট। কয়েকজন শ্রমিক শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে টিলার ওপর থেকে মাটি নিচে ফেলছেন। সেই মাটি ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে নিয়ে রাস্তার পাশের নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে। এ কাজে একটি চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে টিলার বড় একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাঁরা মজুরির বিনিময়ে কাজ করছেন। তাঁদের ভাষ্য, শুনেছি মাটির ঠিকাদার স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে টিলা কেটে নানা মালিকের ভিটা ভরাট করে দিচ্ছেন। এই বক্তব্য যাচাই করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থল প্রশাসনের দুটি দপ্তরের এত কাছে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ ও আলোচনা বাড়ছে।
পরিবেশকর্মী নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে টিলা বা পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনোভাবেই টিলা কাটা যাবে না। তিনি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে টিলা ও পাহাড় রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, টিলা কাটা বন্ধে অভিযান চালানো হবে। তিনি জানান, এর আগেও এখানে টিলা কাটার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের কাছে তথ্য আছে, রাতের আঁধারে লুকিয়ে টিলা কাটা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, কোনোভাবেই টিলা কাটা যাবে না।
তবে স্থানীয়দের দাবি, কাজটি রাতে নয়, দিনের আলোতেই চলছে। প্রশাসনের বক্তব্য ও সরেজমিন চিত্রের এই ফারাক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগে জরিমানা করা হলেও তাতে কাটা বন্ধ হয়নি, এটিও কার্যকর নজরদারির অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
টিলা কেবল মাটির স্তূপ নয়। এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। টিলা কেটে ফেললে ভূমিক্ষয় বাড়ে, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কমে এবং বন্যপ্রাণী ও গাছপালার আবাস নষ্ট হয়। এ কারণেই আইনে টিলা কাটা নিষিদ্ধ। কিন্তু নিয়ম থাকলেও তার প্রয়োগ না হলে এই চর্চা থামানো কঠিন। ঘটনাস্থল পুলিশ ও ভূমি অফিসের এত কাছে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন যে অভিযানের কথা বলেছে, তা কবে এবং কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযুক্ত চক্রের পরিচয় বা কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীদের আশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে বাকি অংশ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় অবশিষ্ট টিলাও অল্প সময়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।
সূত্র:জাগো নিউজ

