বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। অপমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ মরদেহের কাছে গিয়ে বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে।
প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। তাঁর মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। দুই হাত মাথার সামনে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ ছিল এবং পেট ফোলা ছিল। বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার।
নৌ-পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহের হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া গেছে। ওই ফোনের মাধ্যমেই তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাই নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, ২৮ বছর বয়সী তাহসিফ রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ভারতে চলে যান। ওই ঘটনার যে ভিডিও পরে ছড়িয়ে পড়ে, সেটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। এ কারণে তাঁর মৃত্যু নিয়ে আগ্রহ ও প্রশ্ন বেশি তৈরি হয়েছে।
সুরতহাল প্রতিবেদন মূলত মরদেহের বাহ্যিক অবস্থার বর্ণনা। এতে আঘাতের চিহ্ন না থাকার অর্থ এই নয় যে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়ে গেছে। পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে নাক দিয়ে রক্ত বা ফেনা বের হওয়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়। তবে মৃত্যু দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে, তা ময়নাতদন্তের পর এবং পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট হবে। মরদেহ নদে কীভাবে এল, তিনি কখন কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফোন ও ঘড়ি অক্ষত পাওয়ায় ছিনতাইয়ের সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা যায়, তবে এটিও তদন্তসাপেক্ষ।
বর্তমান পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফোনের তথ্য ও পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

