রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৯ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের নুসুক ব্যবস্থায় পুরো অর্থ জমা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, হজযাত্রীদের চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ বিমার আওতায় না থাকায় সৌদি কর্তৃপক্ষ তা বাংলাদেশ থেকে কেটে রেখেছিল। পরে বাংলাদেশ হজ অফিসের উদ্যোগে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৩১০ ও সরকারি ব্যবস্থাপনার ৩০ হজযাত্রী
ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৩১০ জনের জন্য কেটে রাখা হয়েছিল ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল। অন্যদিকে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৩০ জনের চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে কাটা হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ রিয়াল।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
আলোচনার মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে অর্থ
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেদ্দার বাংলাদেশ হজ অফিস অর্থ কেটে রাখার বিষয়টি জানার পর উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হয়।
পাশাপাশি কেটে রাখা অর্থের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হয়।
মন্ত্রী জানান, আগের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কেটে রাখার নজির ছিল না। সে কারণে বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়েছিল।
আরও ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন হজযাত্রীরা
হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকেও হজযাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মোট ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীর মধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা।
সৌদি আরব থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের নামে কেটে রাখা অর্থ ফেরত এবং হজ কার্যক্রমের উদ্বৃত্ত অর্থ বিতরণ—দুই উদ্যোগের ফলে হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

