২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা হয়। এরপর ১৯ বছর কেটে গেছে। কিন্তু নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ এখনো সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। আইনের ভাষায় একে বলা হচ্ছে দ্বৈত প্রশাসন। এই লেখায় রাজনীতির কথা নেই। আমরা শুধু দেখব আইন কী বলে, আদালত কী রায় দিয়েছে এবং কেন কাগজের পৃথকীকরণ বাস্তবে পুরো কাজ করছে না।
সংবিধান কী বলে
সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্র বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক রাখবে। কিন্তু এটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতির অংশ। তাই এই অনুচ্ছেদ ধরে সরাসরি আদালতে মামলা করা যায় না। ১০৯ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগকে অধস্তন সব আদালতের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১১৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি বিধি করে অধস্তন আদালতে নিয়োগ দেন। ১১৬ অনুচ্ছেদে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োগ করার কথা আছে। ১১৬ক অনুচ্ছেদে বিচারকদের বিচারিক কাজে স্বাধীন থাকার নিশ্চয়তা আছে। এই অনুচ্ছেদগুলো একে অপরকে টানাটানি করে।
ইতিহাস: মূল সংবিধান থেকে পঞ্চদশ সংশোধনী
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে নিম্ন আদালতের বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ ছিল সুপ্রিম কোর্টের হাতে। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেয়। পরে সামরিক আইনের এক ঘোষণায় যোগ হয় যে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে এখনকার ১১৬ অনুচ্ছেদ আবার ফিরে আসে। তাই দ্বৈত প্রশাসন কোনো দুর্ঘটনা নয়। সংবিধানের বর্তমান পাঠেই এই ভাগাভাগি লেখা আছে।
মাসদার হোসেন মামলা: আলাদা করার আদেশ
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সবচেয়ে বড় রায় সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় বনাম মাসদার হোসেন, যা ৫২ ডিএলআর (এডি) ৮২ এবং ২০ বিএলডি (এডি) ১০৪ এ প্রকাশিত। ১৯৯৫ সালে জেলা জজ মাসদার হোসেন আরও ৪৪১ জন বিচারকের পক্ষে রিট করেন। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় ঘোষণা করে। ২০০১ সালের ১৮ জুন রিভিউ আবেদন খারিজ করে আদালত নির্দেশনা বাস্তবায়নের আদেশ দেয়। আদালত বলে, ৯৪(৪) ও ১১৬ক অনুচ্ছেদে স্বীকৃত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ। বিধি বা অধস্তন আইন দিয়ে সেই স্বাধীনতা কমানো যাবে না। আদালতের ভাষায়, যা সরাসরি করা যায় না, তা ঘুরপথেও করা যায় না।
“পরামর্শ” শব্দের আইনি ওজন
মাসদার হোসেন মামলায় আদালত ১১৬ অনুচ্ছেদের “পরামর্শ” কথাটিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করে। আদালত বলে, এখানে রাষ্ট্রপতি বলতে বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীকেই বোঝায়, কারণ ৪৮(৩) ও ৫৫(২) অনুচ্ছেদ তাই বলে। পরামর্শের কোনো ধার না থাকলে ১১৬ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদ হয়ে যাবে “মকিং বার্ড”, অর্থাৎ নামমাত্র শোভা। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিনও বলেছেন, পরামর্শ হতে হবে কার্যকর এবং নথিবদ্ধ, মুখে মুখে সারা কোনো আলাপ নয়। আগে ইদ্রিসুর রহমান বনাম শহীদুদ্দিন আহমেদ মামলায় (১৯৯৯, ১৯ বিএলডি ২৯১) হাইকোর্ট বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ না করায় এক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের পদায়ন অবৈধ বলেছিল। তবে আপিল বিভাগ সরকারের অতীতের কাজ রক্ষা করতে ভবিষ্যতমুখী রায়ের নীতি প্রয়োগ করে।
দশ বিচারপতির মামলা এবং একই যুক্তির বিস্তার
বাংলাদেশ বনাম ইদ্রিসুর রহমান (২৯ বিএলডি এডি ৭৯) দশ বিচারপতির মামলা নামে পরিচিত। ২০০৯ সালের ২ মার্চের সংক্ষিপ্ত আদেশে আদালত বলে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আইনি দক্ষতার প্রশ্নে প্রধান বিচারপতির মত প্রাধান্য পাবে, আর ব্যক্তির পূর্বাপর আচরণের প্রশ্নে নির্বাহী বিভাগের মত প্রাধান্য পাবে। আদালত আরও বলে, সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন না হলে অধস্তন আদালতও স্বাধীন হতে পারে না। অর্থাৎ নিম্ন আদালতের স্বাধীনতা আর উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা একই সুতোয় বাঁধা।
কাগজে আলাদা, বাস্তবে নয় কেন
এখানে আইনি কারণ কয়েকটি। প্রথম কারণ, মাসদার রায়ের নির্দেশনা সংবিধান সংশোধন ছাড়াই বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকার বহু বছর তা মানেনি। একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী তিন সরকার ১৮ বার সময় চেয়েছে। শেষে ২০০৭ সালে বিচারিক সার্ভিস কমিশন বিধিমালা ও বেতন কমিশন বিধিমালাসহ চারটি বিধিমালা করে পৃথকীকরণ কার্যকর হয়। অর্থাৎ বিচারকদের স্বাধীনতার বড় অংশ দাঁড়িয়ে আছে বিধির ওপর, সংবিধানের ওপর নয়।
দ্বিতীয় কারণ, বিধি আর সংবিধানের মধ্যে ফাঁক। ২০১৭ সালের বিচারিক সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার ২৯ বিধিতে বলা আছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সুপ্রিম কোর্টের মত না মিললে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ প্রাধান্য পাবে। কিন্তু সংবিধান বলছে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। বিধি সরকার বদলাতে পারে, সংবিধান পারে না। তাই আজ যে প্রাধান্য আছে, কাল তা সরকারের ইচ্ছায় বদলে যেতে পারে।
তৃতীয় কারণ, আইনের প্রয়োগে দুর্বলতা। পরামর্শ যে কার্যকর ও নথিবদ্ধ হতে হবে, এই নীতি রায়ে আছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় বদলি, পদায়ন ও অন্যান্য চাকরির বিষয়ে এখনো ভূমিকা রাখে, যা আপনার মূল প্রতিবেদনেও এসেছে।
হাইকোর্টের ২০২৫ সালের রায় এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ
এই ফাঁক নিয়ে ২০২৪ সালে রিট হয়। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী রিট করেন, আর ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল পাঠ ফিরিয়ে দেয়। আদালত ২০১৭ সালের শৃঙ্খলা বিধিমালাও বাতিল করে। তিন মাসের মধ্যে আলাদা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দেয়। তবে ১১৫ অনুচ্ছেদ বহাল থাকে, ফলে রাষ্ট্রপতিই নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ দেন।
কিন্তু এই রায় এখন কার্যকর নয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২০২৬ সালের ২১ মে আপিল করে, আর ৯ জুন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে। সরকারের যুক্তি, চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হলেই মূল ১৯৭২ সালের পাঠ আপনাআপনি ফেরে না। সরকার গুরুতর সাংবিধানিক জটিলতার আশঙ্কাও জানায়। ১৬ জুন শুনানির দিন ঠিক হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের আইনি প্রশ্ন
অধ্যাদেশটি জারি হয় ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর, আর সচিবালয় কাজ শুরু করে ১১ ডিসেম্বর। সংসদ ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল অধ্যাদেশ বাতিল করে এবং ১৯ মে সচিবালয় বিলুপ্ত হয়। আইনের চোখে অধ্যাদেশ সাধারণ আইন, তাই সংসদ তা বাতিল করতে পারে। কিন্তু অধ্যাদেশ কখনো ১১৬ অনুচ্ছেদ বদলাতে পারে না। তাই বাতিলের পর ব্যবস্থা সংবিধানের মূল অবস্থানে ফিরে গেছে, আর সেটাই দ্বৈত প্রশাসন।
একটি মজার আইনি তথ্য আছে। হাইকোর্টে শুনানির সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আদালতকে জানান যে সচিবালয় গঠনে রাষ্ট্রের আপত্তি নেই। তিনি এখন আইনমন্ত্রী। পরে রাষ্ট্র আপিল করেছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে আইনি ও নীতিগত ফারাক আছে, যদিও নতুন সরকারের নীতি আলাদা হতেই পারে।
দ্বৈত প্রশাসন কেন শেষ করা দরকার
প্রথম কারণ হলো মাসদার রায়ের মূল শিক্ষা। আদালত বলেছে স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ। আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ মামলায় (৪১ ডিএলআর এডি ১৬৫) বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে মূল কাঠামোর অংশ ধরা হয়েছে। আর ৭খ অনুচ্ছেদ মূল কাঠামো সংশোধনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যে ব্যবস্থায় বিচারকের পদায়ন ও বদলির সুতো মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকে, তা এই স্বাধীনতার সঙ্গে খাপ খায় কি না, সেই প্রশ্ন আইনের জন্য গুরুতর।
দ্বিতীয় কারণ হলো সাধারণ মানুষের অধিকার। ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে প্রকাশ্য বিচারের অধিকার দেওয়া আছে। ধরুন একজন বিচারক সরকারের বিরুদ্ধে একটি আদেশ দিলেন। তার বদলি বা পদায়ন যদি মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকে, তাহলে সেই বিচারক মনে মনে ভয় পেতেও পারেন। এটি একটি কাল্পনিক উদাহরণ, কিন্তু আইন এই ঝুঁকির কথা ভেবেই লেখা হয়।
১৯৭২ সালে গণপরিষদে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, আইয়ুব আমলে সরকারের বিরুদ্ধে ইনজাংশন দেওয়ায় এক জেলা জজকে বদলি করা হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকেই পৃথকীকরণের দাবি জোরালো হয়।
তৃতীয় কারণ হলো জবাবদিহির অস্পষ্টতা। দুই কর্তা থাকলে কেউ নিজের দায় পুরো নেয় না। কোনো বদলি বা পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট একে অপরের দিকে আঙুল তুলতে পারে।
আলাদা করলে কী লাভ
প্রথম লাভ হলো বিচারকের মনের জোর। যিনি জানেন তাঁর পদায়ন ও পদোন্নতি শুধু সুপ্রিম কোর্টের হাতে, তিনি নির্ভয়ে রায় লিখতে পারেন। দ্বিতীয় লাভ হলো একটি পরিষ্কার চেইন। আলাদা সচিবালয় থাকলে ১০৯, ১১৫, ১১৬ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদ একটি একক জবাবদিহির ধারায় মেলানো যায়, এমন মত একটি বিশ্লেষণে এসেছে। তৃতীয় লাভ হলো আস্থা। বিচার নিরপেক্ষ হচ্ছে, এই বিশ্বাস নাগরিকের মনে তৈরি হলে আদালতের রায় সমাজে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি হারিয়ে যাওয়া শ্রদ্ধা আসতে থাকবে।
চতুর্থ লাভ অর্থনৈতিক। আপনার প্রতিবেদনে সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ বিচার জরুরি। বিনিয়োগকারী জানতে চান বিরোধ হলে আদালত নিরপেক্ষ থাকবে কি না।
অন্য পক্ষের যুক্তিও জানা দরকার
আইনি বিতর্কের অন্য দিকও আছে। হাইকোর্টে শুনানির সময় তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল ও হস্তক্ষেপকারী আইনজীবী আহসানুল করিম যুক্তি দেন যে ১১৬ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য রাখে। তাঁদের মতে আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়া কোনো বিচারককে বদলি বা পদায়ন করতে পারে না। সংসদীয় বিশেষ কমিটিও একই ধরনের ভারসাম্যের যুক্তি দিয়েছে। এই যুক্তির উত্তরে আইনের প্রশ্ন হলো, ভারসাম্য কি সংবিধানের মূল কাঠামো, অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার চেয়ে বড়? মাসদার রায় তা বলেনি।
আরেকটি সীমাবদ্ধতা দেখা যায় এ বি এম আলতাফ হোসেন বনাম বাংলাদেশ সরকার মামলায় (দেওয়ানি আপিল ২৩২/২০১৪, রায় ১৪ জুন ২০২৩)। সেখানে বিচারকরা আলাদা মত লিখেছেন। একটি মতে ৪৮ ও ৫১ অনুচ্ছেদের কারণে রাষ্ট্রপতির কাজ আদালতে প্রশ্ন করা যায় না। বিচারপতি নুরুজ্জামান লিখেছেন, ভাগ করা পরামর্শ ব্যবস্থায় শেষ কথা বলার সুযোগ নির্বাহী বিভাগের হাতেই থেকে যায়। এই মামলা বিচারক নিয়োগ নিয়ে হলেও দেখায় পরামর্শ ব্যবস্থার দুর্বলতা কোথায়।
সমাধানের পথ
আইনি দিক থেকে তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথম পথ হলো আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়, যা ১১৬ অনুচ্ছেদের অর্থ স্পষ্ট করবে। দ্বিতীয় পথ হলো সংসদের মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এমন প্রতিশ্রুতি ছিল এবং জুলাই জাতীয় সনদেও তা প্রস্তাব হয়েছিল, যা আপনার মূল প্রতিবেদনে আছে। তৃতীয় পথ হলো আলাদা আইন করে স্থায়ী সচিবালয় গঠন, যা মাসদার রায়ের নীতি মেনে চলবে।
আইন বদলের আগেও কিছু কাজ সম্ভব। পরামর্শ যেন কার্যকর ও নথিবদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করা যায়। শৃঙ্খলা বিধিমালার ২৯ বিধির মতো সুরক্ষা ধরে রাখা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, বিধি দিয়ে চালানো ব্যবস্থা সংবিধানের গ্যারান্টির সমান নয়।
পৃথকীকরণের ১৯ বছর পরও আইনের কাগজ আর বাস্তবের মধ্যে ফাঁক রয়ে গেছে। কারণ সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিজেই ক্ষমতা ভাগ করে রেখেছে, আর স্বাধীনতার অনেকটাই দাঁড়িয়ে আছে বিধি ও রীতির ওপর। আদালত বহুবার বলেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মূল ভিত। এখন প্রশ্ন একটাই। সেই ভিত শক্ত করতে রাষ্ট্র সংবিধানের পথে হাঁটবে, নাকি আপিল বিভাগের রায়ের অপেক্ষায় থাকবে। উত্তর যা-ই হোক, তার প্রভাব পড়বে প্রতিটি সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারে।
- তথ্যসূত্র
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২২, ৩৫(৩), ৪৮, ৫১, ৫৫, ৭খ, ৯৪(৪), ১০৯, ১১৫, ১১৬, ১১৬ক।
- সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় বনাম মাসদার হোসেন, ৫২ ডিএলআর (এডি) ৮২ এবং ২০ বিএলডি (এডি) ১০৪।
- বাংলাদেশ বনাম ইদ্রিসুর রহমান, ২৯ বিএলডি (এডি) ৭৯, সংক্ষিপ্ত আদেশ ২ মার্চ ২০০৯।
- ইদ্রিসুর রহমান বনাম শহীদুদ্দিন আহমেদ, ১৯ বিএলডি ২৯১।
- আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ, ৪১ ডিএলআর (এডি) ১৬৫।
- এ বি এম আলতাফ হোসেন বনাম বাংলাদেশ সরকার, দেওয়ানি আপিল ২৩২/২০১৪, আপিল বিভাগ, ১৪ জুন ২০২৩।
- সাদ্দাম হোসেন ও অন্যরা মামলার হাইকোর্ট রায়, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ, ৯ জুন ২০২৬।
- এম রফিকুল ইসলামের “Independence of the judiciary: the Masdar case” (ডেইলি স্টার), মাহমুদুল ইসলামের “Separation of Judiciary” (ডেইলি স্টার, ১৯ মার্চ ২০০২)
- বিচারপতি এম এ মতিনের সাক্ষাৎকার (ডেইলি স্টার, ল অ্যান্ড আওয়ার রাইটস)।
Joydip Ghosh Alin
Legal Researcher, Citizen’s Voice

