দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, মোট মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অন্যদিকে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিভাগটিতে ৫১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেটে ২০২ জন, চট্টগ্রামে ১১২ জন, রাজশাহীতে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৮৯ জন, বরিশালে ৬৯ জন, খুলনায় ৫৭ জন এবং রংপুরে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৪৯২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে ৫৬ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৮৫ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রামে ৩১১ জন, বরিশালে ১৫০ জন, সিলেটে ১৪১ জন, খুলনায় ১২৫ জন, ময়মনসিংহে ১০০ জন, রাজশাহীতে ৪৩ জন এবং রংপুরে ৩৯ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২ লাখ ৬ হাজার ১৬৮ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জন।
তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয় না। একইভাবে হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এ রোগের উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে মূলত হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যই প্রতিফলিত হচ্ছে। এর বাইরে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
হাম শনাক্ত হওয়া রোগী এবং হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি। কারণ, উপসর্গ থাকলেই কোনো রোগীকে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না।

