গ্রাহকদের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সাত কর্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হায়দার আলী এ আদেশ দেন।
মামলার সাত আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন বিচারক। অন্যদিকে, বাকি ছয় আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
কারাগারে পাঠানো সাত আসামি হলেন রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার মহবুবুর রহমান, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এমএলএসএস (কার্যসহকারী ও অফিস সহায়ক) রেজাউল আলম, সাবেক পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল অপারেটর বিউটি রানী দাস ও নুরুল মাসুদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকেরা স্থায়ী আমানত বা এফডিআর করার জন্য ডাকঘরে টাকা জমা দিয়েছিলেন। এ সময় তাঁদের জমার রসিদও দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, জমা নেওয়া সেই টাকা ডাকঘরের কোষাগারে জমা করা হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার নামের এক গ্রাহক গত ৩০ জুলাই রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার নির্ধারিত তারিখে মঙ্গলবার ১৩ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অনুপস্থিত ছয় আসামির বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ জহুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অর্থ আত্মসাতের মামলায় হাজিরার দিন সাত আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ছাড়া আদালতে অনুপস্থিত অপর ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজবাড়ী আদালত চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক।
সমাবেশে তাঁরা জানান, দীর্ঘদিনের কষ্টে জমানো টাকা হারিয়ে তাঁদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় সংসারেও অশান্তি দেখা দিয়েছে। দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

