পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধায় সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই পাথর ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করছেন একদল শ্রমিক। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করেও তাঁদের আয় সামান্য। অথচ প্রতিদিনের এই কাজে তাঁরা পড়ছেন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে।
পাথরের টুকরো আর ধুলার মধ্যে বসে কাজ করতে হয় এসব শ্রমিককে। মুখে মাস্ক, চোখে সুরক্ষা চশমা কিংবা হাতে গ্লাভসের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াই তাঁরা পাথর ভাঙেন। এতে ধুলা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাথরের ছোট টুকরো ছিটকে এসে আঘাত করার ঝুঁকিও থাকে প্রতিনিয়ত।
মজুরির হিসাবেও রয়েছে বড় ব্যবধান। সারা দিনের পরিশ্রমে নারী শ্রমিকেরা পান ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। পুরুষ শ্রমিকদের আয় ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এই আয় যথেষ্ট নয়। ফলে ঝুঁকি জেনেও এ কাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ তাঁদের কম।
দীর্ঘদিন ধুলার মধ্যে কাজ করলে ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয়। শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যূনতম সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা তাই জরুরি। একই সঙ্গে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মজুরির ব্যবধান নিয়েও ভাবার সুযোগ আছে।

