বরগুনার আমতলীতে ইসমাইল শাহ মাজারে বার্ষিক ওরস চলাকালীন সময়ে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং মাজারের ভিতরের সামিয়ানা ও দুটি বৈঠকখানা পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার মধ্যরাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি ওমর ফারুক জেহাদী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী বায়েজিদ নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মাজারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার পর মাজারের খাদেম মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানান, হামলাকারীরা ভক্তদের মারধর করেছে এবং মাজারের বাক্সে থাকা টাকা লুট করেছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দমকল কর্মীরা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন সোলায়মান (৩৮), রেজাউল (১৮), বাদল মৃধা (৪০), দুলাল মৃধা (৪২), আবু বকর (২৯), আবুল হোসেন (২৮), আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৮), মো. মামুন (৪৩), আবুল কালাম (৪২), জোবায়ের (১৯), ও ফজলুল করিম (২৭)। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইসমাইল শাহ মাজারটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতি বছর এ মাজারে দুই দিনব্যাপী ওরস অনুষ্ঠিত হয়। রোববার সন্ধ্যায় ২৮তম ওরস শুরু হয়, যার মধ্যে পাঁচশতাধিক ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের দাবি, তারা মাজারের খাদেমকে রমজান মাসে গানবাজনা ও পূজা বন্ধ করতে বলেছিলেন কিন্তু খাদেম তা মানেননি। তারা অভিযোগ করেছেন, মাজারের ভক্তরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয়।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন বিষয়টির তদন্ত করছে।

