দেশে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মহানগরসহ মোট ছয়টি জেলায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা নজরে এসেছে। দেশের কয়েকটি এলাকায় মিছিল-সমাবেশসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। তাদের দায়িত্ব হবে যেকোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অপতৎপরতা মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেনা মোতায়েনের এই সিদ্ধান্তকে ব্যতিক্রমী কিছু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজনে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী কিংবা বিজিবিকে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে গোয়েন্দা তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ জুন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন শেষে সেনাবাহিনীকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে যে সীমিত পরিসরে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আগের পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।
কেবল ছয়টি জেলায় সেনা মোতায়েনের কারণ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় অপতৎপরতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেসব এলাকাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের হার অতীতের অনেক সময়ের তুলনায় কম রয়েছে। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এক সংসদ সদস্যের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং প্রয়োজনীয় মনে করায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামনে রেখে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি এবং মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবে।

