দেশে হামের প্রকোপ কমার লক্ষণ না থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা পাওয়া যায়নি। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৮৩ জনে পৌঁছেছে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের একজন করে শিশু রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এ পর্যন্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫৯০ জন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮৩ জনে।
সংক্রমণের দিক থেকেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬০ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৭১ জনে।
একই সময়ে আরও ৯৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা বেড়ে ৯৩ হাজার ৭৫৫ জনে পৌঁছেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত রোগীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক উপসর্গযুক্ত রোগীর উপস্থিতি সংক্রমণ পরিস্থিতিকে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রাখছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং শিশুদের সুরক্ষায় সচেতনতা জোরদার করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে নজরদারি ও চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনগণকে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।

