—বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার ঘটনা বেড়ে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে অন্তত ১৪১টি মবের ঘটনায় ৮৩ জন নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরকার মব প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছে।
মব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি-
দেশের রাজনৈতিক দলগুলো মব নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কেউ এই ঘটনাগুলোকে ‘জনরোষ‘ হিসেবে দেখায়, কেউ বলছে ক্ষুব্ধ মানুষের ‘প্রেসার গ্রুপ‘ হিসেবে। বিগত সরকারের শাসনে নির্যাতিতদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মবকে ব্যাখ্যা দেওয়ার কথাও বলা হয়। অন্যদিকে কিছু রাজনীতিক মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হওয়ায় মব বাড়ছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন দলকেই মব ঘটানোর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সবাই উদ্বেগ প্রকাশ করছে যে, মব নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে।

মবের পেছনের কারন ও দায়-
মব ঘটানোর পেছনে রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ভূমিকা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন বলছে, ধর্মভিত্তিক কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং কিছু রাজনৈতিক দলের সমর্থনে মব সৃষ্টি হচ্ছে। এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মব তৈরি ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে, যা সরকারের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
বিএনপির বিরুদ্ধে মব ঘটানোর অভিযোগ থাকলেও দলটি তা অস্বীকার করে এবং তাদের নেতারা বলছেন, দলের চার হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হচ্ছে।

মবের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ও সরকারী প্রতিক্রিয়া-
গত মাসের শুরুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে চারটি মব ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গত দশ মাসে মব-সম্পর্কিত নিহতের সংখ্যা ১৭৪। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার মব প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার করছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার মব নিয়ে সঠিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের সময় সরকারের নিরবতা ছিল বলে সমালোচনা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও বিশ্লেষকদের মতামত-
কিছু রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামি মনে করে, অতীতের অপরাধীদের যথাযথ বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। এনসিপির নেতারা বলছেন, মব সৃষ্টি একক কোনো গোষ্ঠীর কাজ নয়; মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও ক্ষোভের প্রতিফলন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, মবের পেছনে প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে, যা দেশের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ করছে।

