চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু ও করোনার তুলনায় চিকুনগুনিয়া ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। নগরীর দুটি বেসরকারি ল্যাবের তথ্যে দেখা গেছে, ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত সংগ্রহ করা ১৫৯টি নমুনার মধ্যে ১৩৮টিতেই চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছে- যার হার প্রায় ৮৭ শতাংশ।
সরকারি ব্যবস্থায় এখনো চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ল্যাবে যাচ্ছেন। এপিক হেলথ কেয়ার ও পার্কভিউ হাসপাতাল- এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনই শনাক্তের হার ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
এপিক হেলথ কেয়ারের হিসাব বলছে, ৬ দিনে ১৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১২০ জনের রোগ শনাক্ত হয়েছে, শনাক্ত হার ৮৮ শতাংশ। পার্কভিউ হাসপাতালে ২২টি নমুনার মধ্যে ১৮ জনের আক্রান্ত হওয়া নিশ্চিত হয়েছে, শনাক্ত হার প্রায় ৮২ শতাংশ।
এপিক হেলথ কেয়ারের হেড অব মেডিকেল সার্ভিস হামিদ হোছাইন আজাদ জানান, “চিকুনগুনিয়া মারাত্মক আকার নিচ্ছে। আমরা নিয়মিত সিভিল সার্জন অফিসকে অবহিত করছি।” তবে পার্কভিউ হাসপাতাল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “চিকুনগুনিয়া লক্ষণগতভাবে ডেঙ্গুর মতো। জ্বর, গাঁটে ব্যথা, মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, কখনো মাথাব্যথা, ফুলে যাওয়া, র্যাশ- সব উপসর্গই রয়েছে। এটি মশার কামড়ে ছড়ায়। তাই মশা থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
৯ জুলাই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ১০ জন ও করোনায় ৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। তুলনামূলকভাবে চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ সংখ্যা এবং হার এত বেশি যে স্বাস্থ্যখাতে এখন নতুন করে বিরাট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সরকারি পর্যায়ে চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার ব্যবস্থা, ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার ও মশা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

