বাংলাদেশে মতপ্রকাশ ও তথ্যের স্বাধীনতা এখনো বড় ধরনের সংকটে রয়েছে বলে জানাল যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। সংস্থাটি মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৬০তম অধিবেশনে ‘গ্লোবাল এক্সপ্রেশন রিপোর্ট’ উপস্থাপন করে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য জরুরি। বিশেষ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আর্টিকেল নাইনটিন মনে করে, শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও জুলাই ২০২৪-এর গণ–অভ্যুত্থান রাজনৈতিক সংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সাইবার সিকিউরিটি আইন বাতিল করাকে ইতিবাচক ধাপ বলা হলেও নতুন কিছু খসড়া আইন মতপ্রকাশ ও গোপনীয়তার অধিকারকে সীমিত করে দিতে পারে। এসব আইনে অযথা কনটেন্ট মুছে ফেলার সুযোগ, বেআইনি নজরদারি, স্বচ্ছতার অভাব এবং নাগরিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যা মামলার কথা, যেটি এক দশকের বেশি সময়েও আলোর মুখ দেখেনি। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন ও খন্দকার শাহ আলম হত্যার ঘটনাও একই ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে।
এছাড়া নারী সাংবাদিকদের প্রতি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানির বিষয়টিও প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে শুরু করে অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত নানা ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
আর্টিকেল নাইনটিন বলেছে, বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—খসড়া আইনসহ সামগ্রিক আইনি কাঠামো সংস্কার করা, যাতে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

