ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে এখন পর্যন্ত নয়টি আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করেছেন ৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে চারটি আবেদন হাইকোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। দুটি আবেদনের শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আজ রোববার (১ মার্চ), তবে বাকি তিনটি এখনও কার্যতালিকায় ওঠেনি।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী এসব নির্বাচনী আবেদন নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চে এসব আবেদন শুনানি হচ্ছে। দেওয়ানি এখতিয়ারের পাশাপাশি বেঞ্চে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী করা নির্বাচনী আবেদন, সংশ্লিষ্ট রুল ও অন্যান্য বিষয়ও গ্রহণ ও শুনানি করা হচ্ছে।
শুনানির জন্য গ্রহণ করা চারটি আসন হলো— শেরপুর-১, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪। আবেদনকারী প্রার্থীরা হলেন: শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন, ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের মো. এনায়াত উল্লাহ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের মো. আব্দুর রহিম সরকার।
জামায়াতের তিন প্রার্থীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রাহেমীন চৌধুরী।
শেরপুর-১ আসনের ফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে করা আবেদনের শুনানি আগামী ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। আদালত একই সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নোটিশ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪ আসনের আবেদনের শুনানি যথাক্রমে ৩ মে এবং ১০ মে অনুষ্ঠিত হবে।
আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির জানান, আদালতে উপস্থাপিত ফলাফল শিটে গুরুতর অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। একটিতে পোলিং এজেন্টদের নাম থাকলেও নির্বাচন কমিশনের সিল নেই, আবার অন্যটিতে ভিন্ন ধরনের সিল আছে। একই কেন্দ্রের ফলাফল শিট দুই রকম হতে পারবে না। কিছু কেন্দ্রে পেন্সিল দিয়ে লেখা হয়েছে, কেন্দ্র নম্বর ও নামও উল্লেখ নেই— যা সম্পূর্ণ নিয়মবিরোধী। এসব কারণে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আবেদনগুলো গ্রহণ ও নোটিশ জারি করেছেন।
এদিকে রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান এবং পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিবের করা দুটি আবেদন আজকের কার্যতালিকায় রয়েছে। মোট নয়টি আবেদনের মধ্যে বাকি তিনটির আবেদনকারীর পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

