বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে সুদহার নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার থেকে নিয়মিত বেঞ্চমার্ক বা রেফারেন্স রেট প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা পুরো আর্থিক খাতে সুদের একটি নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিন সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নতুন ব্যবস্থায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রকৃত লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিদিন রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হবে। কলমানি ও ইন্টারব্যাংক রেপো লেনদেনের দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হার প্রকাশ করা হবে। এতে বাজারে সুদের প্রবণতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঝুঁকিমুক্ত ও আনসিকিউরড আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ভিত্তিতে দুটি নতুন রেট চালু করা হচ্ছে—বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (বিওএফআর) এবং ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট (ডিওএমএমআর)। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে প্রতি কর্মদিবসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এই রেট প্রকাশ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে এসব রেট অনুসরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ঋণ চুক্তি, বন্ড, পরিবর্তনশীল সুদহারভিত্তিক আর্থিক পণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুদ নির্ধারণে এই রেফারেন্স রেট ব্যবহার করা যাবে। ফলে সুদের হার নির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য একটি কাঠামো তৈরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে দেশে ‘ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট’ (ডিবোর) চালু ছিল। তবে এটি মূলত ব্যাংকগুলোর প্রস্তাবিত সুদের ওপর নির্ভরশীল ছিল, বাস্তব লেনদেনের ওপর নয়। অনেক ব্যাংক নিয়মিত তথ্য না দেওয়ায় বাজারের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হতো না। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
এবার অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে গড়ের ভিত্তিতে রেট নির্ধারণ করা হবে। অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রভাব কমাতে বিশেষ পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। আর কোনো দিনে পর্যাপ্ত লেনদেন না হলে ‘রোলিং উইন্ডো’ পদ্ধতিতে আগের কার্যদিবসের তথ্য যুক্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের আর্থিক খাতে সুদহার নির্ধারণে একটি বিশ্বাসযোগ্য মানদণ্ড তৈরি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তেও সহায়ক হবে।

