রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একই দিনে দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মানববন্ধনের পর সেখানে পাল্টা সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ। তারা ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ব্যক্তি এস আলমকে গ্রেপ্তার এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।
রোববার সকালে প্রথমে ছয়টি ইসলামী ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা মানববন্ধন করেন। এর কিছু সময় পর একই স্থানে গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আরেকটি কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যাংক দখলচেষ্টা বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাতিলের দাবি তোলেন।
সমাবেশে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল করা। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলোকে ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।
সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, যেসব গ্রাহকের কাছ থেকে জোরপূর্বক মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের হাতে দ্রুত ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।
এ সময় ১৫ দিনের একটি কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সভা-সমাবেশ আয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ ও তথ্য প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে।মতিঝিলের এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাংক খাতের চলমান সংকট, মালিকানা বিরোধ এবং আইনি বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

