বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী আয়ের ব্যবস্থাপনায় প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্তে দেখা গেছে, কয়েক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স সংশ্লিষ্ট ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের শুরু থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়কে দুই ভাগে বিশ্লেষণ করে এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দেড় বছরে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ভ্যাট পরিশোধ করা হয়নি। পরবর্তী আড়াই বছরে আরও প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার ভ্যাট বকেয়া থাকে। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে মোট অপরিশোধিত ভ্যাট দাঁড়ায় ৪ কোটির বেশি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ইউনিট অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত করে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বৃহৎ করদাতা ইউনিট সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাই করে এই অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রেমিট্যান্স নিজে করমুক্ত হলেও এর ব্যবস্থাপনায় ব্যাংককে নির্দিষ্ট হারে উৎসে ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু ওই ব্যাংক এই ভ্যাট যথাসময়ে পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে নোটিশ পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভ্যাট জমা দেওয়ার কথা জানায়, যা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করার ইঙ্গিত দেয়।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া ভ্যাট জমা দিলেও নিয়ম অনুযায়ী সুদ ও জরিমানা আরোপ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুধু রেমিট্যান্স নয়, ব্যাংকটির কেনাকাটা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ভ্যাট পরিশোধে অনিয়ম পাওয়া গেছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব খাতে আরও কিছু ভ্যাট পরিশোধ না করার ঘটনা ঘটেছে, যার পরিমাণ ২০ লাখ টাকার বেশি।
এ ঘটনায় ব্যাংকিং খাতে নিয়ম মেনে কর পরিশোধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগ জরুরি। তা না হলে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

