দেশের ব্যাংক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত আইন সংশোধনের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে অতীতে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার পথ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত ‘ব্যাংক রেগুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ ছিল দুর্বল ব্যাংকগুলো পুনর্গঠন এবং অনিয়মকারীদের বাইরে রাখার একটি কঠোর উদ্যোগ। কিন্তু বর্তমান সরকার তা সংশোধন করে ‘ব্যাংক রেগুলেশন আইন ২০২৬’ হিসেবে পাস করায় সেই কঠোর অবস্থান অনেকটাই শিথিল হয়েছে।
নতুন আইনের একটি বিতর্কিত ধারায় বলা হয়েছে, একীভূত বা সংকটে পড়া ব্যাংকের আগের মালিক বা পরিচালকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পুনরায় মালিকানা ফিরে পেতে পারবেন। সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থের একটি অংশ অগ্রিম পরিশোধ করে এবং বাকি অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোধের মাধ্যমে তারা আবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। এই বিধানই মূলত সমালোচনার কেন্দ্রে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, যেখানে অনিয়মের জন্য দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার কথা, সেখানে তাদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংক খাতের সংস্কার ব্যাহত হবে। এতে দুর্বল ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই পরিবর্তন বাস্তবতার নিরিখে করা হয়েছে। সংশোধিত আইন ব্যাংক খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে এবং সরকারকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। একই সঙ্গে আমানত ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং পুঁজিবাজারেও আস্থা ফিরতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এই ধরনের বড় নীতিগত পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আইন সংশোধনের আগে প্রয়োজনীয় মতামত নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশের আওতায় কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করা হয়েছিল। নতুন আইনে সেই একীভূত ব্যাংকগুলোর আগের মালিকদের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো শক্তিশালী তদারকি, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর নীতি বজায় রাখা। তা না হলে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

