চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সিটি ব্যাংক। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১৬২ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ সময় ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৯২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি আয়ও বেড়ে ০.৬ টাকা থেকে ১.৬ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
ব্যাংকটির এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল কোর ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে আয় বৃদ্ধি। ঋণ থেকে সুদ আয় ১৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ আয় বড় ধরনের লাফ দিয়ে ৬০৩ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ১৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা মোট পরিচালন আয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, কার্ড সেবা এবং বাণিজ্য কমিশন থেকে আয় বাড়ায় ফি ও কমিশন খাতেও ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। ফলে প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির মোট আয় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আয়ের পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও সক্ষমতা দেখিয়েছে ব্যাংকটি। এ সময় মোট ব্যয় ছিল ৫৯৫ কোটি টাকা। এতে আয়-ব্যয়ের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়ে ৫২ শতাংশ থেকে কমে ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।
পরিচালন মুনাফার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এই মুনাফা ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৪৬১ কোটি টাকা। পাশাপাশি সম্পদের গুণগত মান উন্নত হওয়ায় খেলাপি ঋণের বিপরীতে সংরক্ষণ কম রাখতে হয়েছে, যা নিট মুনাফা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
তবে ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ে। তাদের মতে, সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণের গতি কমে যাওয়া ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদ আয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ফি-ভিত্তিক আয়ের বিস্তার এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে সিটি ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে।

