সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগকে ঘিরে শুরু হয়েছে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া। তবে প্রথম দিনেই এ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে বিতর্কিত সময়ে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সাবেক ব্যাংকারকে ডাকার কারণে।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ছয়জন প্রার্থী সাক্ষাৎকার দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি জাফর আলম, যিনি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণকালীন সময়ে দায়িত্বে ছিলেন। ব্যাংকটি এস আলমমুক্ত হওয়ার পর তিনি চাপের মুখে পদত্যাগ করেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রথম দিনের তালিকায় আরও ছিলেন সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, সীমান্ত ব্যাংকের সাবেক এমডি রফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের বাংলাদেশ শাখার প্রধান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন। মোট ১২ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা রয়েছে, বাকি ছয়জনের সাক্ষাৎকার হবে বৃহস্পতিবার।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হচ্ছে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে। এগুলো হলো সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটি ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, যেহেতু এটি সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক, তাই এমডি নিয়োগের বিষয়টি তদারক করছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তবে এস আলম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে ডাকা হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য গঠিত কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, অতিরিক্ত সচিব আজিমুদ্দিন বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট আরও সদস্যরা।
সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেককেও সাক্ষাৎকারে ডাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তাঁর দায়িত্বকালেও ব্যাংকটিতে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তিনিও চাপের মুখে পদত্যাগ করেন, যদিও তখন তিনি স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করেছিলেন।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকারের আগে প্রার্থীদের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন হাতে আসে। শেষ মুহূর্তে দুজন প্রার্থীর বিষয়ে তথ্য পাওয়ায় তাঁদের বাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাঁরা যেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে এই ব্যাংকের এমডি হিসেবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে যোগ দেননি। একই সময়ে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়াও পদত্যাগ করেন। এতে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ।

