আন্তর্জাতিক বাজারের সুদের হার বিবেচনায় বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্য ঋণের ব্যয়সীমা কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের অর্থায়নে এখন থেকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক সুদের হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ অতিরিক্ত সুদ বা মার্কআপ যোগ করা যাবে। আগে এই সীমা ছিল ৪ শতাংশ পর্যন্ত।
মঙ্গলবার জারি করা এক সার্কুলারে দেশের সব ব্যাংককে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া স্বল্পমেয়াদি আমদানি ঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক রেট— যেমন সোফর বা ইউরিবোরের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ নির্ধারণ করা যাবে।
একই নিয়ম রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। বিশেষ করে বিল ডিসকাউন্টিং ও ওপেন অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া অর্থায়নেও একই সুদসীমা প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক সুদের হার সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমতির দিকে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ব্যয়সীমা পুনর্নির্ধারণ করেছে। এর ফলে আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার খরচ কিছুটা কমবে। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্যোক্তারা স্বস্তি পেতে পারেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের উচ্চমূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মধ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থায়ন ব্যয় কমানো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অতিরিক্ত সুদের চাপ পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত রফতানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, সুদসীমা কমানোর এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকেও আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণ মূল্য নির্ধারণে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়নের গতি বাড়াতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু সুদসীমা কমালেই হবে না; ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং আমদানি–রফতানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত সুফল পুরোপুরি নাও পেতে পারেন।

