কড়া নিরাপত্তা, কঠোর গোপনীয়তা আর সিসিটিভি বন্ধের মধ্য দিয়ে একদিন ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিলেন চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী এস আলম। সেই সফরটি ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভেতরের শক্তি–প্রভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ব্যাংকটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর সাধারণত তিনি খুব কমই সরাসরি উপস্থিত থাকতেন। তবে নির্দিষ্ট ওই দিনে তাঁর আগমনের আগে থেকেই ব্যাংকের ভেতরে নেওয়া হয় অসাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এমনকি ব্যাংকের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুপুরের কিছু আগে তিনি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। ব্যাংকের ভেতরে ওই সময় এক ধরনের অস্বাভাবিক নীরবতা ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বিরাজ করছিল বলে কর্মকর্তারা জানান।
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের রদবদল ঘটে। বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও বিতর্কও তৈরি হয়। ব্যাংকটির শীর্ষ পদে পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাওয়া নিয়ে সমালোচনা হয়।
উল্লেখিত সফরের দিন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে জানা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ওই সময় ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ ও চলাফেরায় কড়াকড়ি এতটাই বেশি ছিল যে সাধারণ কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। কোনো ধরনের ছবি বা ভিডিও ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও নিয়োগ ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়মের চর্চা শুরু হয়। এর ফলে ব্যাংকটির সম্পদের মান ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতি শুধু একটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নয়, বরং পুরো ব্যাংক খাতের শাসনব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তারা মনে করেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা না থাকলে এ ধরনের সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ব্যাংক খাত–সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের এসব ঘটনা এখন পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অনিয়মিত প্রভাব রোধ করা যায় এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

