বিশ্বের প্রভাবশালী সমাজসেবকদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক–এর নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের একশ প্রভাবশালী সমাজসেবকের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
দারিদ্র্য থেকে উত্তরণ, জীবিকা উন্নয়ন, শিক্ষা ও ক্ষুদ্রঋণসহ ব্র্যাকের নানা উদ্যোগ বাংলাদেশ ছাড়িয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনছে। বৈশ্বিক উন্নয়ন ও সহযোগিতার ধরণ যখন পরিবর্তনের পথে, তখন দক্ষিণাঞ্চলের অভিজ্ঞতা, কণ্ঠস্বর ও শিক্ষাকে নতুনভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ধারায় ব্র্যাকের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই এসেছে এই আন্তর্জাতিক সম্মান।
গত বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামো নিয়ে নতুন মডেলের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ও কার্যকর উন্নয়ন পদ্ধতির আলোচনায় ব্র্যাকের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
ঊনিশশো বাহাত্তর সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। শুরুতে বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি নামে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। তখন মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের সহায়তা করা। পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত নাম ব্র্যাক হিসেবে এটি পরিচিতি পায়। বর্তমানে সংস্থাটি এশিয়া ও আফ্রিকার প্রায় পনেরো কোটি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সহায়তা সংস্থাগুলোর অর্থায়ন কমে যাওয়ায় ব্র্যাকের কার্যক্রমও কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন সমন্বিত উন্নয়ন মডেলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। যেখানে লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে আসিফ সালেহ বলেন, সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা বোঝার চেষ্টা করেন কোন ধরনের সহায়তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। এজন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কাজ করা হয়। তিনি আরও জানান, স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পদ্ধতিই ব্র্যাককে প্রচলিত পশ্চিমা ধাঁচের উন্নয়ন মডেল থেকে আলাদা করেছে।
তার ভাষায়, উন্নয়ন মানে শুধু দান নয়। যাদের জন্য কাজ করা হয়, তারা যেন সরাসরি সেই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারেন—এই অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই ব্র্যাকের মূল শক্তি।

