দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত শিপিং কোম্পানিগুলো লিজে নেওয়া বা ভাড়ায় পরিচালিত জাহাজের ভাড়া সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে পারবে। এতে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় মালিকানাধীন জাহাজ পরিচালনা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠিয়েছে।
এর আগে একই ধরনের সুবিধা কেবল দেশের বিমান পরিবহন খাতে প্রযোজ্য ছিল। স্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলো লিজে নেওয়া উড়োজাহাজের ভাড়া বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে পারত। নতুন নির্দেশনার ফলে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও একই সুবিধার আওতায় এলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানোই এ সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের শিপিং খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। সার্কুলার অনুযায়ী, লিজে নেওয়া জাহাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন থাকতে হবে। পাশাপাশি এসব জাহাজের কার্যক্রম ও আয়-ব্যয়ের তথ্য নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।
এ ছাড়া জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা নির্ধারিত বিধি অনুসারে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এসব শর্ত নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর ওপর।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, লিজের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন জাহাজ বহরে যুক্ত করতে আরও আগ্রহী হবে।
তারা বলছেন, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়লে বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাবদ বিদেশে অর্থ চলে যাওয়ার পরিমাণ হ্রাস পাবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

