দেশের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. ফজলুর রহমান। গত ১৮ জুন থেকে তার এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ব্যাংকটির সঙ্গে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় তিন দশক আগে তিনি এবি ব্যাংকে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবি ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তার নেতৃত্বে ওই সময়ে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি ও কার্যক্রমে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
মো. ফজলুর রহমান পেশাগতভাবে একজন স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ব্যাংকিং, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, করপোরেট গভর্ন্যান্স, বিনিয়োগ কার্যক্রম এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশের আর্থিক খাতে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার ফলে তিনি ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন।
পুঁজিবাজার উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ ব্যাংকিং কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সুপরিচিত। আর্থিক খাতের বিভিন্ন নীতি, সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তার মতামত ও বিশ্লেষণ সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়ে থাকে।
ব্যাংকিং খাতের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে তিনি নিয়মিত লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে তার একাধিক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকায় নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তার নেতৃত্ব এবি ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাংকিং খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং গ্রাহকসেবা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

