দেশে ব্যাংকিং সেবার পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি এবং ঋণ হিসাবের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি।
জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, দেশে কত মানুষের ব্যাংক হিসাব রয়েছে এবং যাদের এখনো ব্যাংক হিসাব নেই, তাদের আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ১০০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আর্থিক সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বলতে শুধু ব্যাংক হিসাব নয়; বরং ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল আর্থিক সেবা, বীমা, পুঁজিবাজার, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অনুমোদিত আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হিসাব ও সেবাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলের প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হচ্ছে। তবে দেশের সব নাগরিককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। এ কারণে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল-২’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত মেয়াদের এই নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটির বেশি হওয়া দেশের আর্থিক খাতের সম্প্রসারণের একটি ইতিবাচক সূচক। তবে হিসাবের সংখ্যা ও হিসাবধারীর সংখ্যা এক বিষয় নয়। একজন ব্যক্তি একাধিক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারেন। তাই প্রকৃত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সক্রিয় গ্রাহক, লেনদেনের পরিমাণ এবং সেবার ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং গ্রামীণ পর্যায়ে আর্থিক সেবার বিস্তার দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে নারী, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তাদের মতে, শুধু হিসাব খোলাই নয়, বরং নিয়মিত আর্থিক লেনদেন, সঞ্চয়ের অভ্যাস, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়াতে পারলেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

