সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করা বা সেবা প্রদানে অনীহা দেখানোর অভিযোগে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনোভাবেই এ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (ডিএমডি) এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। ডিএমডি সার্কুলার লেটার নং-০৯/২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, কিছু ব্যাংক সঞ্চয়পত্র বিক্রির অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহকদের নানা অজুহাতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। কোথাও প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়া, কোথাও অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি করা কিংবা অন্য বিনিয়োগ পণ্যের দিকে গ্রাহকদের উৎসাহিত করার মতো অভিযোগও সামনে এসেছে।
এ পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো সঞ্চয়পত্রের ইস্যু অফিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রয়, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা তাদের বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।
নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে শাখা পর্যায়ে সঞ্চয়পত্র-সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য দৃশ্যমান স্থানে ব্যবস্থা প্রদর্শন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত নিষ্পত্তির পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র এখনও সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, মধ্যবিত্ত পরিবার, নারী এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের একটি বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনীহা গ্রহণযোগ্য নয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকগুলো অনেক সময় আমানত সংগ্রহের স্বার্থে গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তে নিজস্ব আমানত স্কিমে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে থাকে। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় সঞ্চয়পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে গ্রাহকদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নতুন নির্দেশনার ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বিদ্যমান জটিলতা কমবে এবং বিনিয়োগকারীরা আরও সহজে ও দ্রুত সেবা পাবেন।

