বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যাংকিং খাত শুধু আমানত গ্রহণ ও ঋণ বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা একটি দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক আস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ঋণ খেলাপি সমস্যা, সুশাসনের ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এখন যুক্ত হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার চাপ।
এসব চ্যালেঞ্জ শুধু ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকেই প্রভাবিত করছে না; বরং গ্রাহকের আস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। ফলে ব্যাংকিং খাতকে টেকসই, স্বচ্ছ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন ঝুঁকিগুলোর প্রকৃতি, কারণ এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের সুশাসনের ঘাটতি, ঋণ বিতরণে অনিয়ম, লাগামহীন খেলাপি ঋণের বিস্তার এবং দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে খাতটির ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, যার ফলে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের ব্যয় বেড়েছে, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলস্বরূপ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিও কিছুটা শ্লথ হয়েছে।
ব্যাংকিং স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে গ্রাহকদের আস্থার সংকট। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, মূলধনের ঘাটতি এবং কিছু ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতার খবর প্রকাশের পর অনেক আমানতকারী তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এই প্রবণতা দুর্বল ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।
খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান পরিমাণও ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, ঋণের সুদহার বাড়ছে এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের গতি মন্থর হচ্ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও পড়ছে।
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া, দুর্বল পরিচালনা পর্ষদ, অনিয়ম এবং বিভিন্ন ধরনের প্রভাবের কারণে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্যতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। এর ফলে আর্থিক শৃঙ্খলা দুর্বল হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবার দ্রুত সম্প্রসারণ নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিও তৈরি করেছে। ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অনলাইন জালিয়াতি এবং আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন ব্যাংকগুলোর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চাপও দেশের ব্যাংকিং খাতকে প্রভাবিত করছে। এসব বহিরাগত ঝুঁকির কারণে আমদানি-রপ্তানি অর্থায়ন, বৈদেশিক লেনদেন এবং সামগ্রিক আর্থিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হচ্ছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করছে। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে আর্থিক সংকটে পড়া বা দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, একীভূতকরণ এবং প্রয়োজনীয় রেজুলেশন ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
আইনটি প্রণয়নের সময় এর ১৮(ক) ধারা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ওই ধারার বিধান দুর্বল ব্যাংকের পূর্ববর্তী মালিকানা কাঠামো পুনর্বহালের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যা জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। পরবর্তীতে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে এসব সংস্কারের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অনেক ব্যাংকের জন্য এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
বর্তমান সংকট থেকে ব্যাংকিং খাতকে টেকসই ও স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের বিকল্প নেই। সর্বপ্রথম খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুদ্ধারে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ আদায় প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কার্যক্রম শক্তিশালী করতে হবে, যাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ঋণ পুনরুদ্ধার সহজ হয় এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। পরিচালনা পর্ষদে দক্ষ, স্বাধীন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ঋণ অনুমোদনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অযাচিত প্রভাবমুক্ত পেশাদার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
তারল্য ব্যবস্থাপনায়ও বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর তদারকি, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্যদিকে, দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা, নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা পরিচালনা এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি করলে অনলাইন জালিয়াতি ও সাইবার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর, সুশাসনভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থাই ভবিষ্যতে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রধান ভিত্তি হতে পারে।
ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করলেই হবে না; প্রয়োজন সমন্বিত ও কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার। এর অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত খেলাপি ঋণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং সমস্যাগ্রস্ত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে আদায়যোগ্য নয় এমন ঋণ ব্যাংকগুলোর মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IFRS 9) অনুযায়ী সম্ভাব্য ঋণক্ষতির আগাম হিসাবায়ন ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কার্যকর তদারকি জোরদার করা জরুরি। ব্যাংক পরিচালনায় পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকসহ পুরো খাতে সুশাসনের চর্চা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এতে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাও একটি স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং প্রয়োজনে তার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো ব্যাংক সাময়িক তারল্য সংকটে পড়লে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় জরুরি তারল্য সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মুদ্রানীতির ক্ষেত্রেও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত পদক্ষেপ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উৎপাদন, রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ বজায় রাখাও সমান জরুরি। তাই মূল্যস্থিতি রক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখতে সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে আর বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। রাজস্ব ব্যবস্থা, আর্থিক নীতি, সুশাসন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সমন্বিত সংস্কারই একটি স্থিতিশীল ও আস্থাভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পূর্বশর্ত।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা শুধু আর্থিক খাতের নয়, পুরো অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সময়োপযোগী সংস্কার, কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।

