রপ্তানি ভর্তুকি ও বিকল্প নগদ সহায়তার আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খলতা আনতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বিধান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি ভর্তুকির আবেদন নিরীক্ষায় অডিট ফার্ম নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ (এফইপিডি-১) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতসহ যেসব খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা বা রপ্তানি ভর্তুকি দেওয়া হয়, সেসব আবেদনের নিরীক্ষা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তির ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তাদের নিজস্ব আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় যতসংখ্যক অডিট ফার্ম নিয়োজিত রেখেছে, রপ্তানি ভর্তুকির আবেদন নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ একই সংখ্যক অডিট ফার্ম নিয়োগ করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১-এর পূর্বানুমোদন বা অনাপত্তি প্রয়োজন হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কোনো ব্যাংকের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগের প্রয়োজন হলে তার যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অডিট ফার্মের পূর্ববর্তী নিয়োগের তথ্য, রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনের সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত অডিট ফার্ম নিয়োগ করা যাবে না।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিষয়ে ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর জারি করা এফই সার্কুলার নম্বর-২০ এবং ২০২৪ সালের ৬ জুলাই জারি করা এফই সার্কুলার পত্র নম্বর-১০-সহ পূর্বের অন্যান্য নির্দেশনা বহাল থাকবে। অর্থাৎ নতুন নির্দেশনা বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রপ্তানি ভর্তুকির আবেদন নিরীক্ষায় অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত হলে নিরীক্ষা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রণোদনা বিতরণে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ঝুঁকি কমাতেও নতুন নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

