Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, জুলাই 15, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » সরকার নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক, সঠিক পথে কে
    ব্যাংক

    সরকার নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক, সঠিক পথে কে

    নিউজ ডেস্কজুলাই 14, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সরকারের রাজস্বনীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি একে অপরের পরিপূরক হওয়ার বদলে অনেকটা বিপরীত দিকে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে। সাধারণভাবে একটি দেশের বাজেটনীতি ও মুদ্রানীতি একসঙ্গে কাজ করার কথা। সরকারের ব্যয়, কর, ঋণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা যেমন মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে, তেমনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার, ঋণপ্রবাহ ও টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণও অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    কিন্তু ৩০ জুন একটি অস্বস্তিকর ছবি সামনে আসে। একই দিনে জাতীয় সংসদে সরকার বড় আকারের সম্প্রসারণমূলক বাজেট পাস করে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি। একদিকে সরকার ব্যয় বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে বাজারে টাকার প্রবাহ কমাতে চাইছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সঠিক পথে কে—সরকার, নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক?

    একই দিনে দুই বিপরীত বার্তা

    সরকারের সম্প্রসারণমূলক বাজেটের মূল বার্তা হলো উন্নয়ন, ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক গতি বাড়ানো। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির বার্তা হলো বাজারে অতিরিক্ত টাকা কমানো, ঋণপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এবং মূল্যস্ফীতি কমানো।

    এই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে অর্থনীতিতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারেন না, সরকার আসলে বিনিয়োগ বাড়াতে চাইছে, নাকি ঋণ ব্যয় বাড়িয়ে বিনিয়োগকে কঠিন করে তুলছে। সাধারণ মানুষও দেখে, বাজেটে বড় বড় প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু বাজারে চাল, ডাল, তেল, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দাম কমছে না।

    গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে। মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে টাকার মূল্য কমে যায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং স্থির আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শ অনুযায়ী সুদহার বাড়ানো এবং বাজারে টাকার সরবরাহ কমানোর পথ নিয়েছে। তত্ত্ব অনুযায়ী, সুদহার বাড়লে ঋণের চাহিদা কমে, বাজারে খরচ কমে, ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা এত সরল নয়।

    মূল্যস্ফীতি কেন কমছে না

    সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কয়েক বছর ধরে চললেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। তবে বেসরকারি অনেক হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশের কম নয়।

    আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকৃত মূল্যস্ফীতির তুলনায় সরকারি পরিসংখ্যানে ৫ থেকে ৭ শতাংশ পয়েন্ট কম দেখানোর অভিযোগ ছিল। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাজে হস্তক্ষেপ করেনি বলে গত দুই বছর মূল্যস্ফীতির হিসাব তুলনামূলকভাবে কম চাপা পড়েছে বলে বলা হচ্ছে।

    বর্তমান মূল্যস্ফীতির একটি বড় অংশ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তৈরি হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল যুদ্ধ, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে শুধু বাইরের কারণ দেখিয়ে দায় এড়ানো যায় না। দেশের ভেতরের নীতিগত ভুল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ, করের চাপ, পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতাও মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার নিজেই উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। বড় ঘাটতিনির্ভর বাজেট তার একটি বড় উদাহরণ।

    বাজেটের অঙ্ক ও বাস্তবতার ফারাক

    চলতি বছরের বাজেটের আকার ৯.৩৮ ট্রিলিয়ন টাকা। আগের বছরের তুলনায় এটি ১.৫ ট্রিলিয়ন টাকা বেশি। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২.৪ ট্রিলিয়ন টাকা। সরকার ৯.৩৮ ট্রিলিয়ন টাকার বাজেটের মধ্যে ৭ ট্রিলিয়ন টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরেছে। কিন্তু বাস্তবে কর আদায় ৪.৫ ট্রিলিয়ন টাকার কাছাকাছি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এতে প্রকৃত ঘাটতি প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে আরও ঋণ নিতে হবে এবং কর বাড়াতে হবে। দুটিই মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে। সরকার যদি ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়। আবার কর বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে।

    স্বল্পোন্নত দেশের বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। অথচ নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৫ শতাংশ। বাস্তবতা হলো, গত অর্থবছরে প্রায় ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে বাজেটের আশাবাদী লক্ষ্য অনেকের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না।

    ঋণপ্রবাহ, খেলাপি ঋণ ও সুদের চাপ

    বাংলাদেশ ব্যাংক এ বছর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে সরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৩ শতাংশ ধরা হয়েছে, যাতে বাজেট ঘাটতি সামলানো যায়। কিন্তু ব্যাংক খাতের ভেতরের দুর্বলতা এত গভীর যে শুধু ঋণপ্রবাহের লক্ষ্য ঠিক করলেই বাস্তব সমস্যা সমাধান হবে না।

    বর্তমানে ঋণের ৪৫ শতাংশ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। এটি একটি ভয়াবহ সংকেত। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব খেলাপি ঋণের বড় অংশ দেশের ভেতরে উৎপাদনশীল সম্পদ হিসেবে নেই। অভিযোগ রয়েছে, অনেক অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। ফলে ব্যাংকের টাকা আটকে আছে, কিন্তু তার বিপরীতে দেশে বাস্তব সম্পদ বা উৎপাদন নেই।

    এর ফলে সুদের ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে। আমানতের সুদ ও ঋণের সুদের মধ্যে ব্যবধান ৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে বলা হচ্ছে। উন্নত অর্থনীতিতে এই ব্যবধান সাধারণত ২ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ ব্যবধান অনুমোদন করলেও বাস্তবে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এই ব্যবধান কমানো না গেলে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কার্যকর হওয়া কঠিন।

    কারণ সাধারণ মানুষ কম আমানত সুদ পায়, ব্যবসায়ীরা বেশি ঋণ সুদ দেয়, আর মাঝখানে ব্যাংক খাতের অদক্ষতা ও খেলাপি ঋণের বোঝা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে বিনিয়োগও কমে, মূল্যস্ফীতিও কমে না।

    নীতি সুদহার অপরিবর্তিত, ব্যবসায়ীদের হতাশা

    নতুন মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ এতে হতাশ হয়েছে। কারণ উচ্চ সুদহার থাকলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি কঠিন হয়ে পড়ে।

    তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃষ্টিতে পরিস্থিতি সহজ নয়। ব্যাংক খাত দুর্বল, আমানতকারীদের আস্থা নড়বড়ে, মূল্যস্ফীতি বেশি এবং বাজারে অতিরিক্ত টাকা থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতের সুদ বাড়িয়ে সঞ্চয় উৎসাহিত করতে এবং ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল রাখতে চাইছে।

    কিন্তু চার বছর সংকোচনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উচ্চ মূল্যস্ফীতির দেশে পরিণত হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে বর্তমান মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়।

    সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক সফল হবে না

    অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সরকারের ব্যয় কমাতে হবে, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ করতে হবে, রাজস্ব ব্যবস্থাকে বাস্তবসম্মত করতে হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    মুদ্রানীতি এখন পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে নেই। সরকার যদি বড় ঘাটতির বাজেট দেয়, অতিরিক্ত ঋণ নেয়, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বিপুল টাকা তুলে নেয় এবং বড় প্রকল্পে ব্যয় বাড়ায়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক নীতি দুর্বল হয়ে যায়।

    সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের অঙ্ক ফুলিয়ে দেখালে বাজেটের পরিসরও বড় দেখানো যায়। কিন্তু সেই বড় বাজেটের অর্থ জোগাতে সরকারকে ঋণ নিতে হয়। কখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ পড়ে টাকা সরবরাহ বাড়াতে, কখনো বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। এতে বেসরকারি খাত ঋণ পেতে বাধার মুখে পড়ে। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ কমে যায়, কিন্তু ব্যয় থামে না।

    এভাবে একদিকে সরকার উন্নয়নের কথা বলে, অন্যদিকে তার ঋণচাহিদা বেসরকারি বিনিয়োগের জায়গা সংকুচিত করে। এটিকে অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বলা যায়।

    বিনিয়োগ কেন থেমে যাচ্ছে

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের পথে এগোনোর পর রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সংকট, লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বিনিময় হারের অস্থিরতা, উচ্চ কর, বেশি সুদহার এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা উদ্যোক্তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নতুন বিনিয়োগের আগে ব্যবসায়ীরা এখন বারবার হিসাব করছেন, উৎপাদন খরচ সামলে বাজারে টিকে থাকা যাবে কি না।

    রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমার প্রবণতা উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের মধ্যে রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর আশা করা হয়েছিল। বাস্তবে তা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে আটকে আছে। ২০০১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রপ্তানি মোট দেশজ উৎপাদনের ২০ শতাংশ ছিল; এখন তা মাত্র ১০ শতাংশ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে পূর্ণ উত্তরণের পর রপ্তানি মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশেও নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, ইউরোপে চাহিদা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে দেশে বাজার সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তা—দুই পক্ষই চাপে আছে।

    বড় বাজেট কি সত্যিই ব্যবসাবান্ধব

    সরকারের ৯.৩৮ ট্রিলিয়ন টাকার বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার কথা বলা হয়েছে। শুনতে এটি ইতিবাচক। কিন্তু সমস্যা হলো, মুদ্রানীতি এর সঙ্গে তাল মিলাতে পারছে না।

    উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার কমাতে পারছে না। সুদহার বেশি থাকলে ব্যবসায়ীরা সস্তায় ঋণ পায় না। আবার সরকার বেশি ঋণ নিলে ব্যাংকে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের জায়গা কমে যায়। ফলে বাজেটে যতই প্রণোদনা ও কর সুবিধার কথা থাকুক, সাশ্রয়ী অর্থায়ন না থাকলে বাস্তবে বিনিয়োগ বাড়ে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০০ বিলিয়ন টাকার প্রণোদনা তহবিলকে উদ্যোক্তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কোভিড ১৯ সময়ের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রণোদনা তহবিল ঘোষণার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এর স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তার কাছে অর্থ না পৌঁছালে এমন তহবিল উল্টো বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

    বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা দরকার, তবে যেসব শিল্প এখন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, সেগুলোকে আগে বাঁচানো আরও জরুরি। কারণ একটি শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে শুধু মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হন না; শ্রমিক, সরবরাহকারী, ব্যাংক, রপ্তানি আয় এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    মূল্যস্ফীতির আসল কারণ কোথায়

    বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মুদ্রানীতির সম্পর্ক সীমিত। কারণ বাজারের দাম শুধু মানুষের হাতে বেশি টাকা থাকার কারণে বাড়ছে না। দাম বাড়ছে উৎপাদন খরচ, জ্বালানি মূল্য, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয়, কর, ঘুষ, দুর্নীতি, সরবরাহ সংকট এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে।

    যদি পণ্যের সরবরাহ কমে যায়, পরিবহন ব্যয় বাড়ে, বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে, আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা না থাকে, তাহলে সুদহার বাড়িয়ে দাম খুব বেশি কমানো যায় না। বরং উচ্চ সুদহার উৎপাদন খরচ আরও বাড়াতে পারে। এতে ব্যবসায়ী ঋণের খরচ পণ্যের দামে যোগ করে, আর ভোক্তা আরও বেশি দাম দেয়।

    তাই বর্তমান সংকটে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর দায় চাপানো ঠিক হবে না। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও একা সফল হতে পারবে না। সরকারের রাজস্বনীতি, বাণিজ্যনীতি, বিনিময় হারনীতি, জ্বালানিনীতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মুদ্রানীতির সমন্বয় জরুরি।

    তাহলে সঠিক পথে কে

    বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক অবস্থান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। কিন্তু এটি পূর্ণ সমাধান নয়। কারণ মূল্যস্ফীতির বড় অংশ সরবরাহ ও ব্যয়নির্ভর। অন্যদিকে সরকারের সম্প্রসারণমূলক বাজেট রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ। বড় ঘাটতি, উচ্চ ঋণ, দুর্বল রাজস্ব আদায় এবং ব্যাংক খাতের সংকট একসঙ্গে থাকলে এমন বাজেট মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে।

    সুতরাং প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক অন্তত সতর্কতার পথে আছে, কিন্তু সরকারের নীতির সঙ্গে সমন্বয় না থাকলে সেই সতর্কতা ফল দেবে না। সরকার যদি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করে, কর কাঠামো বাস্তবসম্মত না করে, খেলাপি ঋণ ও পাচার রোধে কঠোর না হয়, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারে এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন পর্যায়ে, যেখানে বড় ঘোষণা নয়, দরকার নীতির শৃঙ্খলা। বাজেট যদি একদিকে টানে আর মুদ্রানীতি অন্যদিকে টানে, তাহলে অর্থনীতি মাঝখানে আটকে যায়। সাধারণ মানুষ তখন মূল্যস্ফীতির চাপ সহ্য করে, ব্যবসায়ী ঋণের বোঝা টানে, ব্যাংক খাত খেলাপি ঋণে দুর্বল হয়, আর বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে।

    অর্থনীতি বাঁচাতে হলে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে একই পথে হাঁটতে হবে। মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি, বাণিজ্যনীতি ও বিনিময় হারনীতি—সবকিছুকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আজকের মূল্যস্ফীতি শুধু টাকার সরবরাহের সমস্যা নয়; এটি দুর্নীতি, সরবরাহ সংকট, উৎপাদন ব্যয়, দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নীতির অসামঞ্জস্যের ফল।

    তাই বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার ধরে রেখে যতই সতর্ক থাকুক, সরকার যদি ব্যয়, ঋণ, কর, বাজার ও বিনিয়োগ নীতিতে সঠিক পথে না হাঁটে, তাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিনই থাকবে। এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো রাজনৈতিক প্রদর্শনের বাজেট নয়, বাস্তবভিত্তিক, সমন্বিত এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষাকারী অর্থনৈতিক নীতি তৈরি করা।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ব্যাংক

    শাইনপুকুর সিরামিকসকে শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার অনুমতি

    জুলাই 14, 2026
    ব্যাংক

    ব্যাংকিং সেবা হতে পারে আরও ব্যয়বহুল

    জুলাই 14, 2026
    ব্যাংক

    সিটি ব্যাংক-বিকাশের ডিজিটাল ঋণ বিতরণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

    জুলাই 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.