ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব, ঋণ, শর্ট টার্ম ডিপোজিট (এসটিডি) হিসাব এবং মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বিধান কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এ পদক্ষেপের মাধ্যমে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের তথ্য আরও কার্যকরভাবে তদারকির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
এনবিআর ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে তফসিলি ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এ নতুন একটি উপধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব কিংবা এসটিডি হিসাব খুলতে বা পরিচালনা করতে চাইলে বিআইএন অথবা ভ্যাট নিবন্ধনের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।
শুধু হিসাব খোলার ক্ষেত্রেই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমেও একই শর্ত প্রযোজ্য হবে। নতুন বিধান অনুযায়ী ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণ, এমএফএস মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে মোটরযান নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এনবিআর জানিয়েছে, কেবল নতুন হিসাব নয়, বর্তমানে পরিচালিত সব ব্যবসায়িক চলতি হিসাব, এসটিডি হিসাব, ঋণ হিসাব এবং এমএফএস মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টেও দ্রুত বিআইএন তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের মতে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে বিআইএন সংযুক্ত করা হলে কর প্রশাসনের তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা বাড়বে, কর নেট সম্প্রসারিত হবে এবং ভ্যাট ফাঁকি বা নিবন্ধনবিহীন ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ কমে আসবে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক লেনদেনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং ও কর ব্যবস্থার মধ্যে তথ্য সমন্বয় জোরদার হলে অনিবন্ধিত ব্যবসা চিহ্নিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য যাচাই, কর পরিপালন নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

