যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভাষায় ‘আগ্রাসী কার্যক্রম’ চালিয়ে যাবে, ততদিন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।
বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত চার দিন ধরে দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা আসে।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শুধু হরমুজ নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পথও হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। এর জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায়ও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান।
আইআরজিসির দাবি, ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এ সংক্রান্ত বিবৃতি সম্প্রচার করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শত্রুপক্ষের নৌদস্যুরা ভারত মহাসাগর হয়ে বিশ্বের তেল-গ্যাস রপ্তানির পথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতি হচ্ছে। তাই তাদের বুঝতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষাকারী অন্যান্য জ্বালানি রপ্তানির পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’
তবে কোন কোন বিকল্প রপ্তানি-পথকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, সে বিষয়ে আইআরজিসি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আরেক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘এই অঞ্চলের তেল-গ্যাস রপ্তানির সুযোগ হয় সবার জন্য থাকবে, নয়তো কারও জন্যই থাকবে না।’
পৃথক আরেক ঘোষণায় আইআরজিসি জানায়, ‘আমাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে। যতদিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন চালাবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।’
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেই জাহাজ চলাচল করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে শুল্কও দিতে হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছে। ওয়াশিংটনের মতে, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সেখানে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অংশ।

