আর্থিকভাবে সুস্থ নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) আরও বেশি আমানত সংগ্রহের সুযোগ দিতে বিদ্যমান সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতা ও সুশাসনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারলে এসব প্রতিষ্ঠান এখন ব্যক্তি ও যৌথ হিসাব—উভয় ক্ষেত্রেই আইনে নির্ধারিত সীমার বেশি আমানত গ্রহণ করতে পারবে।
সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ লাখ টাকা এবং যৌথ হিসাবের ক্ষেত্রে এক কোটি টাকা। তবে শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান ও ভালো পরিচালন সক্ষমতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ সীমা শিথিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত আমানত গ্রহণের অনুমতি পেতে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে একযোগে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকৃত ঋণের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হতে হবে, মূলধন পর্যাপ্ততার হার (ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও) কমপক্ষে ১০ শতাংশ থাকতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া কোনো প্রভিশন ডিফারাল সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না।
এছাড়া আইন কার্যকর হওয়ার আগে যে আমানত নির্ধারিত সীমার বেশি নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। মেয়াদ শেষে হিসাবধারীর লিখিত সম্মতি নিয়ে তা নবায়ন করা যাবে।
তবে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আদালত বা বাংলাদেশ ব্যাংক আগে থেকেই আমানত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নতুন সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩–এর ২৪(২) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

