২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে আমানত, ঋণ, সম্পদের পরিমাণ এবং পরিচালন দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। খেলাপি ঋণের হারও কমেছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সা।
বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন—দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধির গতি আরও জোরালো ছিল। এ সময়ে সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেড়ে ৭২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেই শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৫৫ পয়সা।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ধারাবাহিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সব খাতে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধির ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার আমানত ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা করছে। গত এক বছরে ব্যাংকটির আমানত প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৯৫ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।
তিনি জানান, আমানত সংগ্রহ ও সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধি বাজারের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের ভিত্তিও বিস্তৃত হয়েছে।
পরিচালন দক্ষতার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তার মতে, ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকের ‘কস্ট টু ইনকাম রেশিও’ ৪৮ শতাংশ থেকে কমে ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, আয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় আগের চেয়ে আরও দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, করপোরেট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) এবং খুচরা ব্যাংকিং—এই তিনটি প্রধান ব্যবসা খাতেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটের আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হয়েছে।
ঋণের গুণগত মানেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ছয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের হার ২ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। খেলাপি ঋণ কমে যাওয়ায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং মুনাফা বৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা, আমানত ও সম্পদ—তিন ক্ষেত্রেই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশল এবং পরিচালন দক্ষতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে পারাও ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থানকে আরও স্থিতিশীল করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের আর্থিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত সাফল্যের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক চলতি বছরও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

