চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রাইম ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ২০০ কোটি টাকা থেকে ১২ শতাংশ বেশি।
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুনাফার পাশাপাশি সুদ আয় এবং শেয়ারপ্রতি আয়েও উন্নতি হয়েছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সুদ আয় ৫ শতাংশ বেড়ে ৮৬৪ কোটি টাকা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮২৬ কোটি টাকা। সুদ আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
এ সময় ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ১ টাকা ৮৫ পয়সা হয়েছে। ২০২৫ হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে তা ছিল ১ টাকা ৬৪ পয়সা। এছাড়া ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৩ পয়সা।
শুধু এপ্রিল-জুন প্রান্তিক নয়, বছরের প্রথম ছয় মাসের আর্থিক ফলও ইতিবাচক। জানুয়ারি-জুন সময়ে প্রাইম ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪৩৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪১০ কোটি টাকা থেকে ৬ শতাংশ বেশি।
প্রথমার্ধে ব্যাংকটির সুদ আয় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২৫ হিসাব বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৯২ শতাংশ।
এ সময়ের শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ৩ টাকা ৫৬ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৩৬ পয়সা।
লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রাইম ব্যাংক। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের জন্য ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৭ টাকা ৮৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৬ টাকা ৩১ পয়সা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৪০ টাকা।
এর আগে ২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটি মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। এর মধ্যে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ এবং ২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। এছাড়া ২০২৩ ও ২০২২ হিসাব বছরেও শেয়ারধারীরা সাড়ে ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন।
ঋণমানের দিক থেকেও শক্ত অবস্থানে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘এসটি-১’ হিসেবে পুনর্নিশ্চিত করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক ও গুণগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মূল্যায়ন দেওয়া হয়েছে।
২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ব্যাংকটির রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ৩০১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মোট ১২১ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ৯১টি শেয়ারের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এছাড়া ৩৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এবং বাকি ২৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুনাফা, সুদ আয় এবং শেয়ারপ্রতি আয়ের ধারাবাহিক উন্নতি প্রাইম ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে সামগ্রিক ব্যাংক খাত এখনও উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত ঋণ বিতরণ এবং আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ব্যাংকটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

