দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের গতি বাড়ানো, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজ করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে নীতিসুদ কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেপো সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের ২ আগস্ট থেকেই কার্যকর হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রশাসকদের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এতে জানানো হয়, নতুন সুদহার অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত আগের নীতিসুদের কাঠামো বাতিল করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় নীতিসুদের ঊর্ধ্বসীমা, অর্থাৎ স্থায়ী ঋণ সুবিধার সুদহারও ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ১১.৫০ শতাংশ থেকে ১১.০০ শতাংশে নামানো হয়েছে। তবে নিম্নসীমা, অর্থাৎ স্থায়ী আমানত সুবিধার সুদহার অপরিবর্তিত রেখে ৭.৫০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা। এর মাধ্যমে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতিসুদ কমানো হলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে ঋণের সুদহারেও প্রতিফলিত হতে পারে, যা নতুন শিল্প স্থাপন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাবে। তবে এই সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর করতে মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাহিদা এবং ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর একটি নীতিগত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, সুদহার কমানোর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কতটা বাড়াতে সক্ষম হয়।

