দেশে চালু থাকা জনপ্রিয় একটি ডিজিটাল ওয়ালেট বা ই-ওয়ালেট সেবা ‘পকেট’-কে সম্পূর্ণ একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তাঁর ভাষায়, এই সেবাটি আসলে একটি সম্পূর্ণাঙ্গ বা ‘৩৬০ ডিগ্রি’ ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যেখানে একটি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সুবিধাই সংযুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে খুব কম মানুষই ‘পকেট’ কিংবা ‘বাংলা কিউআর’-এর মতো সেবার নাম শুনেছেন, অথচ এগুলো প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কার্যকর সেবা প্রদান করে থাকে। তাঁর মতে, একটি প্রচলিত ব্যাংকের যেসব মৌলিক উপাদান থাকা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই এই সেবার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যে কারণে একে তিনি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এই প্রসঙ্গেই তিনি তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের আর্থিক লেনদেনের একটি সমস্যার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ডিজিটাল আর্থিক সেবায় এত বিস্তৃত সুযোগ থাকার পরও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ আনার ক্ষেত্রে তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঠিক কারা নিচ্ছেন, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তরুণদের চাহিদা ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন, কারণ তারাই মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।
উল্লেখ্য, দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এই ই-ওয়ালেট সেবাটি পরিচালনা করে থাকে। গ্রাহকদের একটিমাত্র মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সব ধরনের আর্থিক প্রয়োজন মেটানো বা এক জায়গা থেকেই সম্পূর্ণ লাইফস্টাইল-ভিত্তিক আর্থিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মূলত এই সেবাকে ‘৩৬০ ডিগ্রি ব্যাংকিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

