রাতের আঁধারে প্রায় তেইশ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের ঘটনা অনুসন্ধানে ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৬ জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার দুদক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সম্প্রতি এই তলব নোটিশ জারি করেন। তলব করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকটির দিলকুশা শাখার এসভিপি, কোম্পানি সেক্রেটারি, বনানী শাখার ইভিপি ও ম্যানেজার, বনানী শাখারই আরেকজন এসভিপি, একাধিক ভিপি ও ইভিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ মোট ষোলো জন ব্যাংক কর্মকর্তা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর, যখন ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় নিয়মিত কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ রাত আটটার পরে প্রায় বাইশ কোটি ষাট লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এই অস্বাভাবিক লেনদেনের ব্যাখ্যা চেয়ে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে হাইকোর্ট ওই শাখার ব্যবস্থাপককে তলব করেছিলেন। একই সঙ্গে আদালত এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের সেই নির্দেশনা মেনেই দুদক পরবর্তীতে বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। ঘটনার দিন বিকেলেই ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ওই গ্রাহকের ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে এই অনুমোদনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়, আর তার কিছুক্ষণ পরই রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়—যা স্বাভাবিক ব্যাংকিং সময়সূচির সম্পূর্ণ বাইরে।
বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে সেদিনের পর্ষদ সভার একটি প্রস্তাব। সভায় উপস্থাপিত নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, ওই গ্রাহকের বিপরীতে ইতিমধ্যেই সীমার অতিরিক্ত প্রায় আটচল্লিশ কোটি টাকার ঋণপত্র খোলা হয়েছে এবং তিনি অন্য একটি ব্যাংকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। এত কিছু জানা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি উপেক্ষা করেই ঋণ নবায়ন করা হয় এবং তড়িঘড়ি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়—যা পুরো ঘটনাটিকে সন্দেহজনক করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

