ইসলামী ব্যাংকের প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ মোট বিশজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে আগামী ২৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন নির্ধারিত সময়ে তা জমা দিতে না পারায় ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত নতুন এই তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে পারস্পরিক যোগসাজশে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ২৫১ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাৎ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একজন পরিচালক হিসেবে বারো নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তাঁকে একটি শিল্পগোষ্ঠী ও তার সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ওই বেসরকারি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান, ইসলামী ব্যাংকের আরেকজন পরিচালকসহ আরও ষোলোজন।
এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কোম্পানিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে সাত কোটির বেশি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা ব্যাংকের মোট শেয়ারের প্রায় পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি এবং যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৫১ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন পঞ্চাশ কোটি টাকা হলেও এর প্রকৃত পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র আট লাখ টাকা—অর্থাৎ এত সামান্য আর্থিক সক্ষমতার একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত বিপুল অঙ্কের শেয়ার অধিগ্রহণ কার্যত অসম্ভব বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের মোট প্রায় বিরাশি শতাংশ শেয়ার চব্বিশটি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল, যাদের অনেকগুলোর সঙ্গে ওই শিল্পগোষ্ঠীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ। শেয়ার কেনাবেচার তারিখ ও অর্থের উৎস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন পক্ষের লেনদেন একই দিনে সম্পন্ন হয়েছে, যা পরিকল্পিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী, চব্বিশটি কোম্পানি এবং তাদের মনোনীত পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে ইসলামী ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পিত কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। এর মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও অবৈধ বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করে বেআইনিভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মামলা দায়েরের পর আদালত সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ব্যতীত অন্য সব আসামির বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্তভাবে দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের ওপর।

