দেশের কৃষি খাতকে আরও চাঙা করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বড় অঙ্কের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকার এই স্কিমে অংশগ্রহণের জন্য গত ১৬ আগস্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিন বছর মেয়াদি এই ঘূর্ণায়মান পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় কৃষি ও পল্লী খাতের বিভিন্ন উপখাতে অর্থায়নের সুযোগ থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে শস্য ও ফসল উৎপাদন, মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ পালন, কৃষি ও সেচযন্ত্র সংগ্রহসহ গ্রামভিত্তিক নানা আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড। উদ্দেশ্য একটাই—কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের হাতে সহজ শর্তে অর্থ পৌঁছে দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
স্কিমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সুদের হার। এই কর্মসূচির আওতায় কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে, যা প্রচলিত বাণিজ্যিক ঋণের তুলনায় অনেকটাই সাশ্রয়ী।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কৃষি ঋণ বিভাগের একজন পরিচালক স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে যমুনা ব্যাংকের পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তথা প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা এবং কৃষি ঋণ ইউনিটের প্রধান উপস্থিত থেকে চুক্তিতে অংশ নেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
যমুনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দেশের কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের পথ সহজ করা। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামাঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।

