শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনসিসি ব্যাংক পিএলসির ২০টি প্রচলিত শাখাকে সম্পূর্ণ ইসলামী ব্যাংকিং শাখায় রূপান্তরের নীতিগত সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ১৭ আগস্ট এই অনুমোদন প্রদান করা হয় বলে বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সব শর্ত ও বিধিবিধান মেনে ধাপে ধাপে এই শাখাগুলোকে ইসলামী ধারায় রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি বিধির অধীনে থাকা শর্তাবলি অনুসরণ করা হবে। ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের সব শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।
এই রূপান্তর উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংকটির সাম্প্রতিক আর্থিক পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস আগের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ছয় মাসে সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮ পয়সায়, যেখানে গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৮৬ পয়সা।
শুধু ছয় মাসের হিসাব নয়, দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়েও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। এই তিন মাসে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৯৬ পয়সার তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মূলত বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধি এবং আগে শেয়ার বাবদ সংরক্ষিত প্রভিশনের একাংশ ফিরে পাওয়ার কারণেই এই সময়ে মুনাফায় উল্লম্ফন দেখা গেছে। এদিকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৩৯ পয়সায়, যা প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক ভিত্তির স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত বহন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকিং ধারায় রূপান্তরের এই সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে মুনাফা বৃদ্ধির এই প্রবণতা ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কৌশলে ইতিবাচক দিক নির্দেশ করছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার প্রতি গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে বিবেচনায় নিয়েই এ ধরনের রূপান্তর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

