Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, সেপ্টে. 25, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » অদৃশ্য লেনদেনের দৃশ্যমান ঝুঁকি: সাইবার নিরাপত্তায় প্রস্তুত কি আমাদের ব্যাংক?
    সম্পাদকীয়

    অদৃশ্য লেনদেনের দৃশ্যমান ঝুঁকি: সাইবার নিরাপত্তায় প্রস্তুত কি আমাদের ব্যাংক?

    নিউজ ডেস্কসেপ্টেম্বর 24, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে অর্থ লেনদেনের ধরন দ্রুত বদলে গেছে। একসময় ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন, জমা বা চেকের মাধ্যমে লেনদেনই ছিল স্বাভাবিক চিত্র। এখন মোবাইল ফোন, কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এটিএম, কিউআর কোড, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার এবং তাৎক্ষণিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই অর্থ স্থানান্তর সম্ভব। ফলে আর্থিক সেবার গতি ও মানুষের সুবিধা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকির পরিধিও।

    ডিজিটাল লেনদেনের এই বিস্তৃতি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। কিন্তু অর্থের চলাচল যত বেশি অদৃশ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে, নিরাপত্তার প্রশ্নটিও তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি দুর্বল পাসওয়ার্ড, প্রতারণামূলক বার্তা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার, চুরি হওয়া পরিচয়পত্রের তথ্য কিংবা একটি অসুরক্ষিত প্রযুক্তিগত সংযোগ কখনো কখনো একটি ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহকের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    ডিজিটাল বিস্তারের সঙ্গে ঝুঁকির নতুন ভূগোল। বাংলাদেশের আর্থিক অবকাঠামোতে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, কার্ড, এটিএম, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেন—সব মিলিয়ে একটি বিশাল ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু একটি গ্রাহক বা একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

    ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো গতি। কিন্তু একই গতি সাইবার অপরাধীদেরও সুবিধা দেয়। নগদ অর্থ চুরি করতে যেখানে শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে, সেখানে ডিজিটাল প্রতারণায় দূরবর্তী অবস্থান থেকেই আক্রমণ করা সম্ভব। চুরি হওয়া অর্থ দ্রুত একাধিক হিসাব, ওয়ালেট বা ব্যক্তির কাছে স্থানান্তর করা যায়। ফলে প্রতারণা শনাক্ত হওয়ার আগেই অর্থের গতিপথ জটিল হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারের পাশাপাশি জালিয়াতি, সাইবার ঝুঁকি ও পরিচালনাগত দুর্বলতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

    ব্যাংকিং খাতে প্রধান সাইবার ঝুঁকি ও বর্তমান রূপরেখা। ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি একক কোনো ধরনের আক্রমণে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে ফিশিং, সামাজিক প্রকৌশল, পরিচয় চুরি, ক্ষতিকর সফটওয়্যার, র‍্যানসমওয়্যার, এটিএম ও কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন ব্যাংকিংয়ের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া, অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি এবং তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে আক্রমণ।

    ফিশিংয়ের ক্ষেত্রে অপরাধীরা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে গ্রাহকের কাছে ভুয়া বার্তা, ই-মেইল বা ওয়েবসাইট পাঠায়। উদ্দেশ্য থাকে পাসওয়ার্ড, কার্ডের তথ্য, ওটিপি বা অন্যান্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করা। সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণায় আবার প্রযুক্তির চেয়ে মানুষের বিশ্বাস ও অসতর্কতাকে বেশি কাজে লাগানো হয়।

    অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত দুর্বলতাও বড় ঝুঁকি। পুরোনো সফটওয়্যার, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা, দুর্বল প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, ভুলভাবে কনফিগার করা ব্যবস্থা কিংবা তৃতীয় পক্ষের সেবার নিরাপত্তা দুর্বলতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু আইটি বিভাগের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হতে হবে।

    ঝুঁকির ব্যাপ্তি বোঝার জন্য বাস্তব পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের পেমেন্ট সিস্টেমস প্রতিবেদনে মোবাইল আর্থিক সেবা, চেকভিত্তিক লেনদেন এবং কার্ড—এই তিন খাতে মোট ৮১,৪২৩টি জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা (৯২৬.০১ মিলিয়ন টাকা)। এর মধ্যে প্রায় ৮২ কোটি ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; অর্থাৎ সামগ্রিক পুনরুদ্ধারের হার ছিল আনুমানিক ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

    মোবাইল আর্থিক সেবা খাতের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে এ খাতে জালিয়াতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা অনুদ্ধারিত থেকে যায়। পুনরুদ্ধারের হার ছিল আনুমানিক ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যান শুধু আর্থিক ক্ষতির হিসাব নয়; এটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া, অর্থের গতিপথ শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে। প্রতারণার অর্থ দ্রুত অন্য হিসাব বা ওয়ালেটে চলে গেলে পরে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতারণা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অস্বাভাবিক লেনদেন ঘটার মুহূর্তেই তা শনাক্ত করার সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নীতিমালা, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ Cyber Security Framework, Version 1.0 জারি করেছে। এর পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশিকা রয়েছে।

    তবে নীতিমালা থাকা এবং তা বাস্তবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা এক বিষয় নয়। একটি ব্যাংকের ফায়ারওয়াল, অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকলেই প্রতিষ্ঠান নিরাপদ হয়ে যায় না। নিয়মিত দুর্বলতা পরীক্ষা, অনুপ্রবেশ পরীক্ষা, লগ বিশ্লেষণ, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, তথ্যের ব্যাকআপ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ২০২৬ সালের জাতীয় সাইবার ড্রিলও এই বাস্তবতার গুরুত্ব সামনে এনেছে। ১৬ মে অনুষ্ঠিত ওই অনলাইন সাইবার ড্রিলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর ৬৮টি দল অংশ নেয়। সেখানে ঝুঁকি নিরীক্ষা, ক্রিপ্টোগ্রাফি, নেটওয়ার্কিং, ওয়েব নিরাপত্তা, ঘটনা মোকাবিলা, ডিজিটাল ফরেনসিকস ও হুমকি বিশ্লেষণের মতো বাস্তবভিত্তিক চ্যালেঞ্জ ছিল। এ ধরনের মহড়া শুধু প্রতিযোগিতা নয়; বাস্তব আক্রমণের সময় একটি প্রতিষ্ঠান কত দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত, বিশ্লেষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারও অনুশীলন।

    প্রযুক্তি নয়, মানুষও নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। সাইবার নিরাপত্তার সবচেয়ে অবহেলিত জায়গাগুলোর একটি হলো মানবিক উপাদান। সবচেয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও একজন কর্মী যদি ভুল ব্যক্তিকে গোপন তথ্য দেন, সন্দেহজনক সংযুক্তিতে ক্লিক করেন কিংবা নিরাপত্তা নীতিমালা উপেক্ষা করেন, তাহলে পুরো ব্যবস্থাই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    একইভাবে গ্রাহকদের অসচেতনতাও বড় সমস্যা। ব্যাংক কখনো ফোন করে ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড জানতে চায় না—এ ধরনের মৌলিক তথ্য সম্পর্কে সচেতনতা এখনও আরও বাড়ানো প্রয়োজন। গ্রাহককে শুধু প্রতারণা হওয়ার পর সতর্ক করলে হবে না; নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা, বাস্তব উদাহরণ ও সহজ ভাষায় নির্দেশনা দিতে হবে।

    ব্যাংকের কর্মীদের জন্যও নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। নতুন ধরনের প্রতারণা ও আক্রমণ পদ্ধতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই একবার প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না; ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তির পাশাপাশি কার্যকর আইন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় জড়িত।

    বর্তমান বাস্তবতায় তাই আইনি কাঠামোর পাশাপাশি দ্রুত ঘটনা জানানো, তথ্য বিনিময় এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থের দ্রুত স্থগিতকরণ ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণ হলে সেটি গোপন রেখে দেওয়ার প্রবণতা সামগ্রিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে। একই সঙ্গে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাইবার ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। নিরাপত্তার নামে অপ্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ নয়; প্রয়োজনীয় তথ্যের সুরক্ষিত ব্যবহারই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

    অডিটের চেয়ে প্রয়োজন বাস্তব পরীক্ষা। অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অডিট করলেও বাস্তব সাইবার আক্রমণের পরিস্থিতিতে কী ঘটবে, তা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয় না। অথচ কাগজে থাকা নিরাপত্তা নীতিমালা আর বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করার সক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

    তাই ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত সাইবার ড্রিল, অনুপ্রবেশ পরীক্ষা, দুর্বলতা মূল্যায়ন এবং আকস্মিক প্রতিক্রিয়া মহড়ার আওতায় আনতে হবে। শুধু প্রযুক্তিগত বিভাগ নয়, ব্যবস্থাপনা, আইন বিভাগ, যোগাযোগ বিভাগ, গ্রাহকসেবা এবং শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরও এসব মহড়ায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

    কারণ বড় সাইবার আক্রমণের সময় শুধু সার্ভার রক্ষা করাই যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে গ্রাহককে জানানো, লেনদেন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং সেবা দ্রুত পুনরুদ্ধার—সবকিছু সমন্বিতভাবে করতে হয়।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রথমেই প্রয়োজন ঝুঁকিভিত্তিক বিনিয়োগ। সব প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি এক নয়; তাই একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চঝুঁকির ব্যবস্থায় অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    দ্বিতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আচরণভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, দ্রুত সতর্কতা এবং ঘটনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    চতুর্থত, ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময়ের কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। কোনো প্রতারণার ধরন একটি প্রতিষ্ঠানে শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দ্রুত সতর্ক হতে পারে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

    পঞ্চমত, প্রতারণার অর্থ দ্রুত স্থগিত ও পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্মী ও গ্রাহকের সচেতনতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবভিত্তিক সাইবার মহড়াকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির অংশ করতে হবে।

    ডিজিটাল ব্যাংকিং এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়; এটি বর্তমান অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষ যত বেশি মোবাইল, কার্ড ও অনলাইন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তার ওপর আস্থাও তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সাইবার নিরাপত্তা তাই কেবল প্রযুক্তিবিদদের দায়িত্ব নয়, এটি ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, কর্মী এবং গ্রাহক—সবার যৌথ দায়িত্ব। একটি নিরাপদ ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু নতুন প্রযুক্তি কেনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত পরীক্ষা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, দক্ষ জনবল, তথ্য বিনিময়, শক্তিশালী নজরদারি এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি।

    অর্থ লেনদেন যখন কাগজের নোট থেকে অদৃশ্য তরঙ্গে পরিণত হয়েছে, তখন সেই অদৃশ্য সম্পদের নিরাপত্তাকেও দৃশ্যমান অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সাফল্য শুধু কত দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা যায়, তার ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে সেই লেনদেনে মানুষ কতটা নিরাপদ ও আস্থাশীল বোধ করে তার ওপরও

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ব্যাংক

    কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়ল ঋণ পুনর্গঠনের সময়সীমা

    সেপ্টেম্বর 24, 2026
    ব্যাংক

    ৪ বছরে এনবিএফআই খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা

    সেপ্টেম্বর 24, 2026
    ব্যাংক

    মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে নীতি সুদ অপরিবর্তিত রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক

    সেপ্টেম্বর 24, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.