শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসি তাদের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় আসন্ন বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থাপনের জন্য আগে নির্ধারিত কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রস্তাব নতুন করে পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় ব্যাংকটি।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানো এক তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটি জানিয়েছে, গত ১৩ আগস্ট অনুমোদিত হওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে আইনগত, নিয়ন্ত্রক, সুশাসন সংক্রান্ত এবং শেয়ারহোল্ডার ও চুক্তিভিত্তিক নানা দিক খতিয়ে দেখার পরই পর্ষদ এই নতুন সিদ্ধান্ত নেয়।
এর ফলে স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া ব্যাংকের সর্বোচ্চ পরিচালক সংখ্যা আটজন থেকে বাড়িয়ে দশজন করার যে প্রস্তাব ছিল, সেটি আগামী বিশেষ সাধারণ সভায় আর তোলা হবে না। প্রস্তাবটি আপাতত সভার আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে উপযুক্ত সময়ে বিষয়টি আবার বিবেচনায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
তবে ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাবটি অপরিবর্তিত থাকছে এবং যথারীতি বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থাপিত হবে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, তিন হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধনকে দশ টাকা অভিহিত মূল্যের তিনশ কোটি সাধারণ শেয়ারে ভাগ করা হবে।
এই মূলধন বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর করার জন্য ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ তথা মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট অংশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রস্তাবও শেয়ারহোল্ডারদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। যদিও চূড়ান্তভাবে এসব প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে শেয়ারহোল্ডার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি অনুমোদনও নিতে হবে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিশেষ সাধারণ সভার জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর, আর সভাটি অনুষ্ঠিত হবে ৪ অক্টোবর তারিখে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিচালক সংখ্যা বাড়ানোর মতো সুশাসন-সংক্রান্ত সংবেদনশীল প্রস্তাব থেকে সরে এসে কেবল মূলধন বৃদ্ধির প্রস্তাবে মনোযোগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকটির সতর্ক ও পরিকল্পিত কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই প্রবণতা ব্যাংক খাতে বৃহত্তর সুশাসন চর্চার একটি অংশ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

