আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আটকে থাকা অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক এখন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রায় দশ হাজার মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে আরও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের এক সভায় ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়, যেখানে এই তথ্য উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সহকারী মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সভায় মূলত পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়—পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার পুনর্গঠন, জনবল সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর একীভূতকরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
জানানো হয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির মতো সমঝোতাভিত্তিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দ্রুত ঋণ আদায় ও বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার আমলে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিটও এখন প্রায় শেষের পথে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ছয় মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে নতুন করে সাজানো হয়েছে পরিচালনা পর্ষদ, এবং গত ১৬ জুলাই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
এ ছাড়া প্রায় ষোলো হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে মূল ব্যাংকিং সিস্টেম, সুইফট এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমসহ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজও এগিয়ে চলছে। আমানতকারীরা যেন পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকেই নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি অভিন্ন ইন্টারফেসও ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সাতশ আশিটি শাখা এবং দেড় হাজার ব্যবসায়িক ইউনিটের একীভূতকরণ ও পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, জনবল ব্যবস্থাপনা, শাখা একীভূতকরণ ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের সার্বিক অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করছে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্ট।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্যে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, ঋণ আদায় প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমে আসবে। পাশাপাশি ব্যাংকে দীর্ঘদিন আটকে থাকা অর্থ পুনরায় উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করাও সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

