দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০টি ব্যাংক যুক্ত হয়েছে। মোট ৪১ হাজার কোটি টাকার এই তহবিলে অংশ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্প্রতি চুক্তি সই করেছে এই ব্যাংকগুলো।
এর আগে প্রথম ধাপে সাতটি ব্যাংক এই তহবিলে যুক্ত হয়েছিল। নতুন করে আরও ১০টি ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় এখন পর্যন্ত মোট ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক স্বল্প সুদে প্রাক-অর্থায়ন ও পুনরর্থায়ন সুবিধা প্রদানের এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হলো।
রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর।
দ্বিতীয় ধাপে চুক্তিবদ্ধ হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে একজন পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রথম ধাপের চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাতটি ব্যাংকের সঙ্গে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত অর্থায়ন প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত তারল্যকে উৎপাদনশীল খাতে সাশ্রয়ী ঋণে রূপান্তরিত করা।
এই ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতকে সহায়তার জন্য। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের চলতি মূলধনে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে তিন হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি খাত বহুমুখীকরণে আরও তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দশটি ভিন্ন বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমন্বিত প্রণোদনা কর্মসূচি অর্থনীতির গতি ফেরাতে এবং বিশেষত বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

