একীভূত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করা গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেও টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার থেকে ১ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ শুরু হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখা গেছে, টাকা উত্তোলনে বড় ধরনের কোনো ভিড় বা জটিলতা তৈরি হয়নি। বরং গ্রাহকদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অর্থ দেওয়া হচ্ছে। অনেক শাখায় গ্রাহকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং মিষ্টিমুখ করানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাকরাইল শাখার ব্যবস্থাপক রহিম খান জানান, তাদের শাখায় ওই দিনে ১১ জন গ্রাহকের টাকা তোলার কথা ছিল। তবে একজন ছাড়া বাকি গ্রাহকরা উপস্থিত হননি। পরে ব্যাংক থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এক্সিম ব্যাংকের পল্টন শাখাতেও তেমন কোনো ভিড় দেখা যায়নি। শাখা কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত দিনে যেসব গ্রাহক টাকা তুলতে এসেছেন, তাদের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনেও গ্রাহকদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নয়াপল্টন শাখায় টাকা তুলতে আসা শারমিন জাহান জানান, তিনি ৩ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী আরও কয়েক দিন পর টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও সন্তানের অসুস্থতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। বিষয়টি জানালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে ওই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয়।
তিনি বলেন, জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় টাকা পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।
তবে সব গ্রাহক একই দিনে টাকা পাচ্ছেন না। যারা পরবর্তী সময়ে আবেদন করেছেন, তাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কয়েকজন গ্রাহক জানান, আগে কয়েকবার টাকা তুলতে এসে ব্যর্থ হলেও এবার অন্যদের টাকা পেতে দেখে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের টাকা দেওয়ার আগে তাদের ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের কোনো ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের খেলাপি ঋণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে।
যদি কোনো গ্রাহকের খেলাপি ঋণের তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যেসব গ্রাহকের কোনো সমস্যা নেই, তারা নিয়ম অনুযায়ী তাদের আমানতের অর্থ তুলে নিতে পারবেন।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে পরিচালিত হচ্ছে। তারা গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নয়াপল্টন শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ যদি পরিবারের অসুস্থতা বা অন্য কোনো জরুরি সমস্যার কথা জানান, তাহলে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ১ সেপ্টেম্বর যারা আবেদন করেছেন তাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী তারিখে আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অর্থ পাবেন।
বিজয়নগর শাখার ব্যবস্থাপক চৌধুরী এস এম আতিকুর রহমান হায়দার জানান, বড় অঙ্কের আমানতকারীরাও চাইলে অর্থ ব্যাংকে রাখতে পারেন। আবার প্রয়োজন হলে টাকা উত্তোলন বা অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ছয় দিনে প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক টাকা ফেরতের আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের চাহিদার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ ছাড় দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে। নতুন এই ব্যাংকের মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

