চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েই বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে রপ্তানি আয়ে ভাটার কারণে এই মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুইশত নয় কোটি ডলারে, যেখানে গত অর্থবছরের একই মাসে এই ঘাটতি ছিল একশত একান্ন কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছে ছয়শত চুয়াল্লিশ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে আট শতাংশ বেশি। বিপরীতে রপ্তানি আয় দেড় শতাংশের কিছু বেশি কমে নেমে এসেছে চারশত পঁয়ত্রিশ কোটি ডলারে। আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে এই ব্যবধান বাড়ার কারণেই সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি প্রসারিত হয়েছে।
তবে রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক লেনদেন পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। জুলাই মাসে প্রবাসী আয় প্রায় সাড়ে পনেরো শতাংশ বেড়ে দুইশত ছিয়াশি কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যার সুবাদে চলতি হিসাবে সাড়ে ছয় কোটি ডলার উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। যদিও গত অর্থবছরের একই মাসে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল আরও বেশি, প্রায় সাড়ে বারো কোটি ডলার—অর্থাৎ রেমিট্যান্স বাড়লেও সামগ্রিক উদ্বৃত্তের হার তুলনামূলকভাবে কমেছে।
আর্থিক হিসাবের চিত্রেও দেখা গেছে ঘাটতির প্রবণতা, যা দাঁড়িয়েছে আটষট্টি কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে এই ঘাটতি ছিল আরও বেশি, আটাশি কোটি ডলার। এই মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান প্রবাহ কমার পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগও আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক কোটি ডলার কমে এগারো কোটি ডলারে নেমেছে, যা দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
সব সূচক একত্র করে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে তেষট্টি কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চুয়ান্ন কোটি ডলারের ঘাটতির তুলনায় বেশি। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে এবং রপ্তানি খাতে দুর্বলতা না কাটলে আগামী মাসগুলোতেও বাণিজ্য ঘাটতি একটি চাপ তৈরি করতে পারে, যদিও রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ এই চাপ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

