দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে যেখানে খেলাপি ঋণের হার প্রায় তেত্রিশ শতাংশে পৌঁছেছে, সেখানে ডিজিটাল মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের ক্ষেত্রে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম—মাত্র তিন থেকে চার শতাংশ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএমের নিজস্ব মিলনায়তনে ডিজিটাল ঋণের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে এই গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মোবাইল আর্থিক সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, ইলেকট্রনিক গ্রাহক পরিচিতি যাচাই ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের ক্রমবিকাশের ফলে দেশে ডিজিটাল অর্থায়নের একটি মজবুত কাঠামো ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে। তবে বাস্তবতা হলো, এই খাত এখনও মূলত ক্ষুদ্র বা ন্যানো আকারের ঋণ এবং ব্যাংক অথবা ব্যাংক-মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগভিত্তিক মডেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রচলিত ঋণ পরিচালনার তুলনায় ডিজিটাল ঋণের পরিচালন ব্যয় অনেক কম হতে পারে, যা এই খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির একটি বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। যদিও খুচরা ঋণ বিতরণ ও ঋণ হিসাবের একটি বড় অংশ বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, তবুও মোট বকেয়া ঋণের সামগ্রিক পরিমাণে এর অবদান এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডিজিটাল ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ, এবং একবার ঋণ নেওয়ার পর পুনরায় ঋণগ্রহণকারীদের হার পঁয়তাল্লিশ থেকে ষাট শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে এই সেবার প্রতি আস্থার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।

