আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী আমদানিকারকরা এখন থেকে ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে পণ্যমূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ঋণপত্র বা এলসি ছাড়াই কেবল বিক্রয় চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে নতুন এই নীতিতে।
রোববার বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো এক সার্কুলারের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন এই আমদানি নীতি আদেশ জারি করে, যা আগামী তিন বছরের বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকবে। পরবর্তী কোনো নতুন নীতি আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বিধানগুলোই বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন নীতিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের বিধান সংযোজন। এর পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ব্যবহৃত আমদানিযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রচলিত এলসি খোলার প্রক্রিয়া ছাড়াই শুধু বিক্রয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আমদানির পথ খোলা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন নীতিতে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পাশাপাশি ব্যাংক-টু-ব্যাংক ঋণপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধের বিষয়েও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে জারি করা আরেকটি সার্কুলার অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার সুযোগ আগে থেকেই বহাল ছিল। নতুন আমদানি নীতি আদেশের প্রেক্ষাপটে সেই সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট বিধানও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত হিসেবে বিবেচিত হবে বলে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে, পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে পণ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত অন্যান্য প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি প্রক্রিয়ায় এই ধরনের নমনীয়তা ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

